নীল স্পর্শের কাব্যত্রয়ী

নীল মেয়ের নীল সুখ

নীল মেয়েটা এত সুন্দর হতে পারে জানা ছিল না আমার একেবারেই
মিষ্টি হেসে জহরের কৌটা বাড়িয়ে দেয় আমার তালুতে
আলতো মুখে চুমু তুলে

আমি হেসে ফেলি
কৌটা খুলে ফেলি অবলীলায়
নীল মেয়ের কৌটো থেকে নীল আলো কুন্ডুলী পাকিয়ে উপরে যায় উঠে
নীল আলো পেঁচিয়ে ফেলে আমায়
চোখের পলকে নীল মেয়েটাও ধুমায়িত কুন্ডুলী রুপ নিয়ে
আমায় পেঁচিয়ে বেড়ায়

প্রান্তর বসতবাড়ী শপিংমল সব কিছু সুনসান হয়ে যায়।
প্রতিচ্ছায়া হয়ে ধোঁয়ার কুন্ডুলীতে আমি ভেসে বেড়াই স্বপ্নসুন্দর প্রত্যাশায়
পোড়ামাটির রঙে রাঙানো দালান-কোঠা রাস্তায় সাদা-কালো মৃত লাশের
শমন শোনা যায়
আমি তৃষ্ণার তহুরায় তাপিত হই
নীল মেয়ের কুসুম পেলব সুখ দিগ্‌-বিদিক আমায় নিয়ে তুলোর মত
ভেসে বেড়ায়।

ও আমার মাতাল বসন্ত বাউল দোলা

আকর্ষণের খই ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলে চিলের আকাশে, হে প্রিয়তমা
বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে নিথর শয়তান
গুলি ছুঁড়ে দেবে বলে গহীন অরণ্য আঁধারে।
বোঝনি কি তুমি তা আজ?

তোমার কৌমুদী রুপ নিটোল আঁখি
শবেবরাতের সেই মোহনীয় রাতের পবিত্র কদর
আমি তো সন্ধ্যা আলোতে সাঁতরিয়ে ছুঁই ভাসমান পদ্ম
মুঠো ভরা হাতে জমিয়ে রাখি বুক পাটাতনের বিস্তৃত সুন্দর
তুমি উড়বে এই হাওয়ার প্রপাতে স্পর্শ তুলে বৃক্ষের শাখে পাতায়

ও আমার মাতাল বসন্ত বাউল দোলা
কবে নিবে ছিঁড়ে হৃদয় শেকড় উপড়িয়ে
মগ্ন হাওয়ায় জলে ভেসে লখিন্দর-বেহুলার নীলাভ ভেলা
কখন পেরিয়ে যাবে দুঃসহ ভয়াবহ আবিল অন্ধ এ অবেলা।।

ওগো কালের তেজী সরস পুতুল

আত্মহত্যার নিমিত্তে সুউচ্চ ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল সে
কিছুটা পতনের পর নীলাভ এক প্রজাপতির স্পর্শ পেয়ে
একজোড়া রুপোলী ডানায় ভাসে নীল বেদন জোৎস্নায়।

কুয়াশার প্রলেপ মিশেছিল পোড়া সারা শরীরময়
বিছার কামড়ে বিধ্বস্থ আত্মা, কী করুণ নিঃসহায়

জোৎস্নার জলজ্যান্ত দুপুরে দুর্ধর্ষ দু’প্রজাপতি উড়ে এসে
নীলাভ যুদ্ধে জড়ায়, তাদের শরীর উদ্‌গিরিত লালায়
বারুদের গন্ধ ফোটে দীর্ণ রাতের সুকোমল শ্রী প্রভায়।

মেঘের আড়ালে উঁকি দেয় মূর্তিমান জলদ্গম্ভীর পুরুষ
বিষণ্ণ গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে তিনি আছেন অস্বস্থিকর
বেঘোর কম্পমান প্রজাপতিদ্বয়ের রক্তাক্ত চিত্ত সংহারে
বিশাল শূন্যতা বিরাজমান নিন্দিত নীরস হা-হুতাশন

একবারও জানলে না ওগো কালের তেজী সরস পুতুল
নিশ্চিত চলছিলাম দু’জন হেঁটে ঈশ্বর স্নিগ্ধ সমতুল।।

Advertisements
%d bloggers like this: