চারটি গান

[কেউ যদি গানগুলোতে সুর করতে চান, অনুমতি অবশ্যই নিতে হবে। সুর করতে ক্লাসিকেলের সাথে ফিউশানের যোগটাকেই বেশি পছন্দ করি। ধন্যবাদ।]

তোরে হারিয়েছি আমি চেতনায় বিচূর্ণ হয়ে

শামান সাত্ত্বিক | জুন ০৫, ২০১২ | ২২:৫০

তোরে হারিয়েছি আমি চেতনায় বিচূর্ণ হয়ে
তোরে হারিয়েছি আমি চেতনায় ধ্বংস নামিয়ে

তুই কেন কেঁদে বেড়াস রাত্রি শিহরণে
তুই কেন কাঁদিস শূন্য বৃক্ষ বিলীন হয়ে

তোর চিবুকের তিলে স্রোতধারা বয়
রঙের ফাগুন তোলে
তোর কামনার ঢেউ ঘূর্ণন তোলে হৃদে
টুইস্টার প্রবাহে

তোর অন্তঃপুরে প্রবাহিত হয়েছিলাম
স্নিগ্ধ শান্ত নদীর আলোড়নে বয়ে
তোকে মুঠোতে পুরেছিলাম, শরীরে
নিদারুণ নবান্নের তুলে ঘ্রাণ

তুই পালাবি কোথায় বল্‌
ঘুরে ফিরে, খুঁজে ফিরে মিশে যাবি
আমার প্রবাহে বালুকাময় সৈকত

রঙ আমার উড়তে থাকে ভাসতে থাকে

খয়েরী ডানায় সে এক চটপটে শালিক ছানা
চোখ-কান খোলা রেখে কথা তার না-বলা শোনা
চাইছিলো সে আসুক উড়ে উড়ে সময়ের আনাগোনা
আমার মনন মগজে দিলো খোঁচা
কীভাবে যে কী করি খুঁজতে কী পারি
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোথায় কাঁচা পাকা সোনা-দানা

সে তো ছোট্ট শালিক ছানা
আমার মন তো মানে না
সে বদ্ধ উঠোন জলে নাড়ালো পা দু’খানা
আমার নাচতে ইচ্ছে, না করে না

হেই শালিক ছানা
আমার উড়তেও যে মানা
বলে শালিক, উড়তে ডানা লাগে না
মন পবনে নাও ভাসালে ছুটছে দেখবে তোমার হাতে ঘুড়িখানা
তুমি নাটাইয়ের সূতো কেটে নিও না
তোমার উড়তে কোন বাধা না

দূরে বসে উঁচুই শালিক রঙের খেলা দেখে
কী রঙ মাখি আমি আমার ক্যানভাসে
ডিগবাজী তুলে শালিক শিমুল বাতাসে
তুলির রঙ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে সর্বত্রে
রঙ আমার উড়তে থাকে ভাসতে থাকে মিশতে থাকে মেঘ আকাশে।

ডিসেম্বর ২৬, ২০১১

কেমন করে ভাললাগা ভালবাসা হয়

কেমন করে ছোঁয়
কেমন করে স্পর্শ করে
কেমন করে ভাললাগা ভালবাসা হয়

কেমন করে হৃদয়ে তোলো শূন্যে ভাসো
কেমন করে শীতলায়তনে পৌঁছি হায়
কেমন করে শরীরে জড়িয়ে নিতে হয়
তুমি ছুঁয়ে যাও, ছোঁয়, ছুঁয়ে ছুঁয়ে সাঁতরে সমুদ্রর তলে পৌঁছোও।

কেমন করে ভাললাগা ভালবাসা হয়
কেমন করে স্পর্শ করো।
কেমন করে ছোঁয়
কেমন করে।

লাবণ্য মাখে আঁখি
জোৎস্নার সুরে সুরভি
ছুঁয়ে যায় চুম, রৌদ্র নিঝুম
গভীরে অস্ত নামে – দিগন্ত লাল লালিমায় কুসুম কালিমায়

কেমন করে ছোঁয়
কেমন করে স্পর্শ করো
কেমন করে ভাললাগা ভালবাসা হয়

তুমি সুপ্ত ছুঁয়ে নেয়া
বাঁশ ঝাড়ে পাখি ডাকা হৃদয় শিউলি ফুল রাঙা
দোয়েল কোয়েল কাকলী

লাবণ্য মাখে আঁখি
লাবণ্য মাখে আঁখি

কেমন করে ছোঁয়
কেমন করে স্পর্শ করে
কেমন করে ভাললাগা ভালবাসা হয়।

মার্চ ৩১, ২০১১

পলি পাললিক মোহন

কেমন আর্ত আমি
যন্ত্রণাময় জীবন
স্বপ্ন বুকে তরতাজা
রাতের হামাগুড়ি দহন।

এখানে আকাশ নীল
নীল তোমার চোখ
পলি পাললিক মোহন।।

দ্রুত ধাবমান হরিণ
ছুটে ট্রেনের অধীন
সবুজ গাছ-গাছালি
নিরীহ গ্রামান্তর
শ্যামল মেঠো প্রান্তর।

নিয়তি নিয়ন্ত্রিত হয়ে
বিস্মিত থাকি চেয়ে
জীবন ব্যর্থ হালে
ভাঙ্গে টিনের চালে
হারায় নিজ গড়ন।

কেমন আর্ত আমি
যন্ত্রণাময় জীবন
স্বপ্ন বুকে তরতাজা
রাতের হামাগুড়ি দহন।

এখানে আকাশ নীল
নীল তোমার চোখ
পলি পাললিক মোহন।।

এখনো দু’বেলা
জ্বালা বড় শুধু জ্বালা
হৃদয় জ্বলে শরীর জ্বালা
জলে জলে জ্বলছে জ্বালা।

সবই কি চর্বিত চর্বণ
সময় হত্যাকরণ
শিশু কিশোরীর খেলা
উড়ে চোখে বালি ধূলা।

সড়ক মধ্য প্রাণ
জ্বলছে খান খান
ধুমা ছাড়ে নষ্ট সবুজ ঘ্রাণ
দিগ্‌বিদিক ছুটে সবে আপ্রাণ।

কেমন আর্ত আমি
যন্ত্রণাময় জীবন
স্বপ্ন বুকে তরতাজা
রাতের হামাগুড়ি দহন।

এখানে আকাশ নীল
নীল তোমার চোখ
পলি পাললিক মোহন।।

কারে পড়াবে মালা
ও ফুলেল ফেরিওয়ালা
অজানা আতঙ্ক চারিধার
বিকট বিদঘুটে ধ্বনি
প্রাণ নিয়ে টানাটানি
আমি লাটিম ঘুরানো ভুলি
তোর মত শিউলী বকুল তুলি
তারপর গাঁথি মালা।

কেমন আর্ত আমি
যন্ত্রণাময় জীবন
স্বপ্ন বুকে তরতাজা
রাতের হামাগুড়ি দহন।

এখানে আকাশ নীল
নীল তোমার চোখ
পলি পাললিক মোহন।।

মানুষের গলে মালা মানায় না
বাঁশি আজ তোর বুকে বাজে না
নিন্দুকেরে নিন্দা করো
শুভ্রকে করো শুভ্রময়
অন্ধকে দেহ আলো
জ্ঞান বেড়ে হও জ্ঞানময়।

কেমন আর্ত আমি
যন্ত্রণাময় জীবন
স্বপ্ন বুকে তরতাজা
রাতের হামাগুড়ি দহন।

এখানে আকাশ নীল
নীল তোমার চোখ
পলি পাললিক মোহন।।

এপ্রিল ১৪, ২০১১

যাত্রা হলো শুরু

স্বদেশ [কবি ঠাকুরের গান]

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে।।
যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয় –
তবে পরান খুলে
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে।।
যদি সবাই ফিরে যায়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায় –
তবে পথের কাঁটা
ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা দলো রে।।
যদি আলো না ধরে, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে –
তবে বজ্রানলে
আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে।।

%d bloggers like this: