জলে ডুবে জলের প্রলাপ

চোখে তার পূর্ণিমা  ভয়াবহ রাত
হয়রান কেঁদে কেটে
দিবসের ভাঙে ভাজ।

জানুয়ারী ২০১৬

চকোলেটি রাত
উড়ে যাও যাও উড়ে তুমি
গায়ে মেখে সমুদ্র প্রপাত।

জানুয়ারী ২০১৬

বাড়ী ফিরে যাও
নিয়ত অধীর তুমি
বরফ গলা নদীর স্বাদ
পাহাড় উঁচিয়ে চৈতন্য
বাঁকা-আঁকা ঘূর্ণন পথ

চাদর জড়িয়ে নিও গো রঙিন
শৈত্যবহে সুরক্ষিতে সইও
লোমশ চাদরে আরো
গভীরনিবেশে মগ্ন হইও।

নভেম্বর ২০১৫

যন্ত্রণার বদ্ধ খাঁচায় নেমে এলাম
দূরে আহা রাক্ষুসী বাঘ
সুঠাম অবয়ব তুলে নাভি বিন্দুতে
চিরল ধারে মেদিনী কাঁপায়
হরিণ শাবক ত্রস্ত উঠে দাঁড়ায়–
ঝড় তুলবে তিরতির জল হাওয়ায়
বনান্তে নিঃশ্বাস ঝরে
বিকট শব্দে কড়্মড়ে ভাঙ্গে ডাল।।

নভেম্বর ২০১৫

কেটে যায় নজর বছর ভাবনায়
হা-পিত্যেশে মোড়া কলিজা
চায়ের সুবাস খুঁজে নিতে চায়।

মুক্তোর দানা ছড়িয়ে আছে যে নর্তকী
তার রূপের গন্ধ ছুঁতে
আমলকির স্বাদ জিভে পুরি।

মার্চ ২০১৫

ওর সাথে ভালবাসা কপাট তুলে রাখে
ওর সাথে ভালবাসা দুলে দুলে উঠে
ওর চোখে ঘুম নামে নৈশ স্বপন
ওর পাশে ভয়ে ভয়ে চোখ মেলে শয়ন
ওর পায়ে পায়চারী মনিরত্নম
ওর পাশে ছুটে আসি হৃদয়ঙ্গম।

জানুয়ারী ২০১৬

মেয়ে তুমি জঘন্য দৃষ্টিতে করো খুন
শরীরে আছে যত অণু পরম-গুণ

ভাইরাসে আক্রান্ত ফুসফুস
ফিরে আসে উদ্বেলিত শ্বাস
ময়ূর মনের তৃষার আগুন

কী যে স্নিগ্ধ পুস্প আধার
সফেদ, আহা সফেদ তুষার
এঁকে বেঁকে ধুপধাপ তার
পদচ্ছাপ।

তৃষিত তোমার ওষ্ঠে
তুষার স্নিগ্ধ জল
সত্যি স্বতঃ টলমল
কী এক নাভিশ্বাস!

অক্টোবর ২০১৫

এক তৃষার ছায়া ছড়িয়ে পড়ে
মেলে দেয়া সর্পিল চুলে
ঢুলু ঢুলু সুগন্ধ মাখে
বণিক চোখের দৃষ্টি

কী যে পেলে মুগ্ধ চেতন
আহা অপূর্ব শোভন
মাঝরাত গড়িয়ে কার ভাঙে ঘোর
– গাড়িতে আনাগোনা

শলতে হাতে আগুণ জ্বালালে
আত্মাহুতি দেবে অস্থির পোকা
তাহারা আগুন আহারে রপ্ত
উফ্‌, খুব যে ভীষণ উত্তপ্ত!

অক্টোবর ২০১৫

সাগরের তল থেকে তুলে মাটি
লেপ্টে দেবো
তোমার নিদেন নাভিমূলে

কাতর আহবানের কিঞ্চিৎ জ্বালা
সর্পযুগল বুঝে গেছে
দূরন্ত দাপাদাপি জল-কিনারে
ভেজা শরীর সমাচ্ছন্ন জ্বরে

কাহিল কাতর দেহ চোখ তুলে
উর্ধ্বমুখী ওঠে চাঁদ
ঈশ্বর জ্বালাময়ী জলের দৈর্ঘ্য
নিত্যই বাড়িয়ে পাতে ফাঁদ।।

অক্টোবর ২০১৫

১০

কমিয়ে গেলে রাতের বিলাপ
কমনীয় মোহে জড়িয়ে
কী যে আগুন হলো পাষাণ
রক্তে নোনা চিড় ধরিয়ে

শান্ত সাগর ভরে শুধু ধোঁয়া ধোঁয়া জ্বর
নীরব বিছুটি পাতা ছড়িয়েছে রক্তাক্ত
আঁচড়
ছিল না বাকি কিছুই সহিষ্ণুতা শরম

চৌঁচির হলে বিশুষ্ক চর
মিলিত হতে থাকে জলে
ভর জোয়ারের প্রহর।।

মার্চ ২০১৬

Advertisements

এক গুচ্ছ কবিতা


চমক রেখে যায় চমক লাগা ভোর
ঘুমের পৃথিবীর ঘুম লেগে থাকে
দু’চোখ দিয়ে তরল রসের আকর
চৌবাচ্চা উপচিয়ে গেলে
অতি দূরের গন্ধমাখা প্রপাত
রুপের নহর বইয়ে দেয় জলে

বসন্ত বন্দনা শেষে
আবারো রক্তিমাভ রঙ-বাহার
ঘরগুলোয় শেফালী শুভ্র ভোরের বাতাস বইতে দেয়।

ফেব্রুয়ারী ২০১৫


স্বপ্নীল চোখ খুঁজে নেয় মমতার অক্ষর
ঝরে গেলে তুষার দানা ইঙ্গিতে অলৌকিক ঈশ্বর

সূতায় বাঁধা পড়লে পাখীর পা
নাইলনের দড়ির গলায় ফাঁসের কথা মনে পড়ে
পাখীর চিৎকারও থেমে যায় ব্যাকরণ অশুদ্ধ বলে
ভোরে ঢেউ খেলে পরাস্ত সমাহিত সমুদ্রের দুই কূলে

আপনাদের ধন্যবাদ আপনারা সমুদ্রের গর্জন থামিয়ে রেখেছেন
আপনারা জগদ্বিখ্যাত লোকদের কদমবুচি করেছেন।

ফেব্রুয়ারী ২০১৫


কখনো মালাটি ফুলেল হবে এই চিন্তা মগজে রাখিনি
নব্য নবী মহান আনন্দে দোতরায় তান তুলে
তার চোখের শলাকার নির্গত আগুণে
ভস্মীভূত সবাই
কঙ্কালসার যৌবনে হাতে বাঁশি উঠেনি বলে
কলমের রণে আগুণ ঝরানো সুখ নামে

আত্মরতির প্লাবন শরীর কেড়ে নিলে
বালুকাময় সৈকতে রোদের খেলা ঝিলিমিলি ঝিকিমিকি।

ফেব্রুয়ারী ২০১৫


গড়ানো চিঠি মাছ ধরার বড়শিতে আটকে গেলে
পাথর সময়গুলো কথা কয়।
অনন্ত দুপুরের নীরব বাতাসে মেঘের আনাগোনা
নিঃশব্দ জনশূন্য হয়ে ওঠে – ঠাঁই নেই।
বেশ নিয়ে গুটি গুটি নড়ে উঠে অশেষ শূন্যতা
হাওয়ায় ভাসা ভাসা চোখ অজানিতে উঁকি দেয়
কোলাহলবিহীন বৃক্ষের মুখর পাতারা চিরল
কপাটে ধাক্কা এলে শাখাগুলোও নড়ে উঠে
কান পেতে দিয়ে সবুজ পত্রালি গুণগুণিয়ে শুনে গান
হিম হয়ে থাকা পুকুর হতে বুদ্বুদের ট্রেন উড়ে চলে।

অক্টোবর ২০১৫


কবর নিস্তব্ধতায় বিভোর হলে
আত্মানুসন্ধান জরুরী শোনায়
শবের শূন্য শরীরে শকুন নৃত্য
মনে হয় না আর হারাম

ধ্যাণমগ্ন বধূর কাছে এলে
ঘুরে ফিরে দেবীমূর্তি কাঁপন ধরায়
হৃদয় ঐশ্বরিক মাতমে লন্ড-ভন্ড হলে
একরত্তি ভোরের রোদের জানালায় উঁকি।

সকল তিলাওয়াত-আবৃত্তি
কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেলে
আয়াতগুলো আরশিতে চোখ মেলে
দু-কূল দরিয়ায় বৃক্ষ-র মেলা বসে সারি সারি।।

নভেম্বর ২০১৫

অভিজিৎ রায়কে উৎসর্গীকৃত ৩টি কবিতা

অবশ্যম্ভাবী আগামী

আমাদের চলার চাকাগুলো কি সরে গেছে
অসংখ্য মার্বেলের উপর গড়িয়ে চলতে হয় ক্রমাগত
বিশ্বাসের বিদঘুটে স্রোত আলোয় বিষণ্ণতা ছড়ালে
এক এক করে চাপাতি রামদা ছোরা কুড়াল এসে
জড়ো হতে থাকে হাতের কব্জির মুঠোয়
তারপর দৃশ্যপটে পর্দার কালোয় ভাইরাসের ছুটোছুটি
খুশির ডিগবাজীতে উন্মত্ত দাপাদাপি

অনেকগুলো মলিন বদন হিংস্রতা মুখোশে ঢেকে দিলে
তাদের মুখাবয়বের পুরো চামড়ার আড়ালে
দাঁতগুলো লাফালাফি করে
কখন যে কাপালিক রক্ত তৃষ্ণা মেটাবে এবার
তার সাদা কাফনে মুড়িয়ে থেকে
ভূমিতে গড়াগড়ি দেবে কাটা মুন্ডু হাতের আঙ্গুল অথবা মাথার পাশের চুল

সব রক্ত ঝরে গেলেও ফোঁটা ফোঁটা রক্ত উড়বে হাওয়ায়
কারো স্পর্শ নেবে বলে রক্ত-কণিকাগুলো
তার প্রাণের লোহিত কণিকায় এসে দেবে যোগ
ঠাঁই করে নেবে আবারও
প্রশান্তির ঋজু ঢঙে দাঁড়িয়ে
অনিবার্য আগামীর অবশ্যম্ভাবী আহবানে।

মাথায় শিং-এর জন্ম

কিভাবে কামড় দিয়ে বসে লবণাক্ত স্রোত
শিং গজাবে বলে রাত জেগে জেগে আকন্ঠ মত্ত থেকেছি
তাজা রক্তের স্বাদ চেখে চেখে
তবুও তোমার চোখের বিরল স্রোত এতটুকুও নড়লো না

নেশার জ্বরে ডুবে থেকে ভোর পেরিয়ে মধ্যাহ্ন এলে
তখনো মগজের ওজনে চাপ খুঁজে বেড়িয়েছি
কী সাবলীল মৌণ উচ্ছ্বাস হৃদয়ে তুলে বিষণ্ণ হয়েছি
মাথায় শিং-এর অস্তিত্ব বোধ করিনি বলে।

আমাকে হাতে তুলে নিতে হলো রাতারাতি
এক চাপাতি আর চকচকে এক চাইনীজ কুড়াল
মাথায় শিং-এর জন্ম হতে হলে
কোন এক মানুষের মগজ মস্তিষ্কে বিদ্যুতের ধারালো প্রবাহ
দিতে হয় বইয়ে।
আনাড়ি আমি চাইনীজ কুড়ালটি সটাং বসিয়ে দিই তার মস্তিকের
প্রশস্থ পশ্চাতে।

তখনো শিং বের হয় নি
শরীর মাথায় কয়েক কোপের পর ফিনকি দিয়ে
রক্ত বেরিয়ে আমার শরীর ধুইয়ে দিলে
হঠাৎ মাথায় শিং-এর উপস্থিতি
বিস্ময়ে বিমূঢ় করে তুলে।।

বৃষ্টি নামছে গুড়ি গুড়ি

মার চিৎকার তীব্র হয়ে উঠলে
সন্তানের শরীর বিক্ষত হয়ে উঠতে থাকে
ওদিকে গোধূলি বেলায়
পরীর রাগ কান্নায় এলে নেমে
এক এক করে পথ ছাড়ে সব অতিথি।

মেলার পথও যে এত কন্টকাকীর্ণ হবে
বই হাতে ফেরা যুবা-যুবতীরা ভেবে উঠে না

বারুদ ফোটে – পটকা, আতশবাজি
ভ্রূক্ষেপ করার দিন শেষ হয়ে গেছে
প্রশ্বাসে সজীব বায়ু ফুসফুসে জমা হবে
বৃষ্টি নামছে গুড়ি গুড়ি।।

পুরোনো কাব্য সম্ভার

স্বচ্ছ জল আলপনা

গোলাকার বৃত্তে লেগে আঁঠালো
একটুও সরতে চাইছে না দানা দানা মানুষগুলো
কী করে যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো মহাশূন্যে হঠাৎ
কীসের আলোড়নে হলো বৃন্তচ্যূত
সে এক রহস্য।

রাস্তায় নেমে এলো জোয়ারের ঢল
পানি কেটে সাঁই সাঁই ছুটছিল টগবগে লিমো এস.ইউ.বি টয়োটা ফোর্ড
এখানে হেঁটেছিল সুতন্বী সুষমাময়ী সুশ্যামা বা সু-উন্নতা শ্বেতাঙ্গী
সুবক্ষা কৃষ্ণকলি রগরগিয়ে দুলকি চালে বসেছিল নগ্ন সফেদ অশ্বের ‘পর
ছুটছিল ধোঁয়া, জড়ানো প্রভাত প্রহরকাল নিঝ্‌ঝুম নিরন্ন ভালে
কেঁপে গেছে তুষারে সিক্ত পানি, হিমবাহে শৈত্য ধ্বনি
পতঙ্গ মরেনি এখনো, ঘনত্ব বেড়েছে তার সুষম
গর্জে ছিল আকাশ তুষার জলের সান্নিধ্যে
জলের ত্বরণে নেমেছিল আজ রাজন্যের রাজকীয় মায়া
বসে আছি আমি বরফ ধোয়া চোখে এঁকে স্বচ্ছ জল আলপনা।

দাঁড়াই জলের অতলে

আকাশের নৃত্য; নৃত্যময় আকাশে নিত্য নতুন খবর –
জলদকণা সিঞ্চিত ও অসঞ্চিত।
বারতা পাঠায় মেঘ জীবন থাকুক সোল্লাসে

ঘ্রাণে মত্ত মাতাল মৌতাতে
পূর্ণিমা রাত সশব্দে থমকে
হাইহিল স্কার্টে উথলে উঠে নগ্ন সজীব কৈশোর কোলাহল

ওদিকে দাঁড়ায় মসলিন চাতক পাতক ইশারায়
বুকের কিনারায় সরু সরু মাস্তুল খর শাবল চালায়
রৌদ্র আকাশে ঝিরঝির হাওয়া বহে মৃদু দু’কূল
ছন্দহারানো বণিক নেবে কি করা বাকিতে ভুল?

আমি আদিগন্ত ছুটি মাঠে জোনাক জ্বলানো পথে
অন্ধ আর্তনাদ ভাসাই প্লাবনে মধ্যাহ্নে আঁধার দেহে
প্রাণান্ত বাঁচতে দিই লম্ফ গভীরে খাই খাবি
ডুবে মরা জলে দেখা মেলে আলোর অতলে দাঁড়াই আসি।

ছায়া কায়া

সেখানে আমি উত্থিত হয়েছিলাম
নীরব নিঃস্তরঙ্গ নির্বাণমুখ
শুধু তাকালাম সম্মুখ
ঘেরা কাঁচের বন্ধন
আমার বিপরীত প্রতিচ্ছবি ভাসে
ভাঙ্গে চমক

একজন কাছে ছিলো
বেঁচে থাকার যন্ত্রণা মুখে নাকে গিলে
দু’চোখ বিস্ফোরিত সর্বক্ষণ,
মৃত্যু এসে ভুল বুঝে তাকে করে বরণ

সে মস্তিষ্ক হেলিয়ে চোখ উপরে নিয়ে
কী যেন কী দেখলো এক
অতঃপর নিথর নিস্তেজ শয্যায়
আশাভঙ্গের পতন হলো চিরন্তন।

শূন্যে সে দেখলো তার কায়া
চমকানোর কিছু কী ছিল, নেই জানা
পতন –
দেখে পতন আমার আমারই ছায়া।।

সোনালী আকাশে মেলে পেখম

by Shaman Shattik on Tuesday, June 21, 2011 at 9:52pm

সোনালী আকাশে পেখম মেলে উড়ে যেতে চেয়েছিল দুরন্ত এক সৈনিক
নোনাজল তুলে মুখে
কড়কড়ে নোটের গন্ধ মেখে শরীর মনে
ডুব দিতে চেয়েছিল সমুদ্র গহীনে
মুক্ত সেঁচে আনেনি

শিয়রে এসে বসেছিল এক এঞ্জেল তার
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল
ডানা ঝাপটাতো তারই মত
পৌঁছে যেতো নদীর ভরা তীর
তর তর করে পানি কেটে বয়ে চলে নৌকো সুস্থির
ধূ ধূ ধূসর দু’প্রান্তর পিছু সরে চলে, দূর দূরে ধীর

বিমর্ষ ছবি হয়ে কেন এলে তুমি দিলে দেখা
গাঢ় বিষণ্ণ দীপ্তি শান্ত দৃঢ় বাষ্পিত অবয়বে
ত্রিশ বছরের পথ খুলে গেল সমানে সামনে
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এলে পর
মিশে গেলো স্বর
ঘুম ঘুম স্বপ্নে অদৃষ্টে ওপর

কি দাপট দেখাবো বলো
স্রোত-বিপরীত ধরি হাল, শীর্ণ ছিন্ন লোপাট পাল
মস্তিষ্ক উদ্গীরিত ঘাম, রক্তে মিশে ফর্মালিন ঘ্রাণ

অঙ্গীকারের পালা ঘুচে স্বপ্নীল আকাশ ছোঁয় হাত
রঙিন প্রজাপতি ভাসছে আলোয় খুব বিষণ্ণ আজ
বিস্তৃত বিশাল লেকের জল স্পন্দনহীন – সময় অসময়
ডানা ঝাপটিয়ে ছুটে বাজ চতুর চোখ যেন নিরীহ প্রণয়।।

না বাঁচার ক্ষোভ

by Shaman Shattik on Tuesday, June 21, 2011 at 9:52pm

স্পর্শের উপর স্পর্শ তুলে শূন্যে মেলে চোখ
সে এক চতুর রোগ
ক্ষরিত হৃদয় আলো ফেলে নিপুণ অবিরত
খুঁজে নিতে পাখির রেশম পালক
এ বড় এক শখ।

পানিতে হেঁটে হেঁটে মাছের আসে ক্লান্তি।
ক্লান্তি আসে আমারও সাঁতারে জলপুলে
ক্ষণিকে মিলায় জল শিহরণ তুলে তুলে
সেও তো জলেরই তলে

ক্লান্ত দেহ অবদমিত হলে
দেখে উর্ধ্বে মূর্ত ছায়াপথ
স্মিত শখ
ঘোরের মাঝে ডুবে নিয়তির রথ
ভুলে সৃষ্ট হাতের নিপুণ গৌরব
অবশেষে পড়ে থাকে পেছনে
ফেলে রাখা হতাশার আসব।

অতৃপ্ত ক্ষুধা মরে নি যদিও
ভেসে উঠে তা রাত্রি ভোর
শূন্য বাড়ি ফিরে নিমেষেই
বিষণ্ণ অবয়ব, না বাঁচার ক্ষোভ।।

ছুঁয়ে যায় শক্তিমান ঈশ্বর

by Shaman Shattik on Tuesday, June 21, 2011 at 9:52pm

আমার ভেতরে ঢোকার সময় হয়েছে
গড়ে দেয়া পদক্ষেপ এগিয়ে যাচ্ছে
পৃথিবীর আন্দোলন প্রশমিত হচ্ছে।

সুড়ঙ্গ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেন আঁধার পেরিয়ে
ম্রিয়মান আকাশ শীষ তুলছে ভোরের বাতাসে
ব্যস্ত পথিক রাজপথ ছেড়ে উড়ে ঝড় ও জড়তায়
গন্তব্যে পৌঁছা বাকি, সময় সময়ই শুধু হাতড়ায়।

একটা হাতল খুঁজে বেড়াই আমি
জীবনভর যুঁতসই তো মেলেনি এক
কার ড্রাইভের হাতল – মানুষ ঘুরায় ডান বাঁয়
নৌকার মাঝি তার বৈঠা বায়

শরৎ আকাশে সাদা কাশফুলও হেলে দুলে ডান বাঁয়
রাখালিয়া বাঁশিতে শঙ্খ নদ পাল তুলে সুরে সুরে গায়
চোখের কোণায় চিক চিক করে জলের রুপোলি আঁচ
প্রখর রোদের সাথে মানিয়ে গেলো রোদগ্লাসের ধাঁচ।

বিরহ, বিষাদ, বিষণ্ণ ডুবে গেছে জলের শরীর তলে
অরুদ্ধ মন জেগে উঠছে রাত্রির ভরা দ্বি-প্রহরে
চেতনার সিঁড়ি বেয়ে নামে বৃষ্টি, কুয়াশামাখা আলোর ঝড়
নীল আসমান ফুঁড়ে ধাবমান তীর ছুঁয়ে যায় শক্তিমান ঈশ্বর।।

বনের আঁধার ছিল লুকিয়ে

শামান সাত্ত্বিক | জুন ১৯, ২০১১ | ০৭:৪৯ বিভাগ: কবিতা

একটা সমুদ্রাকাঙ্খা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
মনন মগজকে শূন্য রেখে আলোর মাঝে সাঁতরিয়ে ছিলাম
আমাদের যৌবণদীপ্তি হাঁটছিল জলের উপর
হাতের স্পর্শে আমাদের হৃদপিন্ড খুঁজে পাইনি।

বৃষ্টির ঝাঁজ আছে কুয়াশাকে কৌতুক করার
সেও জানে
আচ্ছন্নতা ঢাকে কিভাবে প্রিয় নারীর শরীর
শিমুল তুলার উড়াউড়ি তুষারেরও আছে
জলের প্লাবন ধারায় তুষার নেয় আড়ি

আমরা তখন বনের মাঝখানে এসে গেছি
জলকলোচ্ছ্বাসের শব্দ শুনছি।
আমরা বাঘকে কাছে এসে বসে
থাকতে দেখি।
জলের রাজা সে, জলের মাছের ভোগ তার
জলদেবতার সঙ্গে চলে রঙ্গিলা মধুর জারি-সারি

বনের মেয়ে ছুটে আসে বিধ্বস্ত ক্লান্ত চকিত
ঘুমরাঙা চোখ দেখে আতংকিত শব সুহৃদ
বনের আঁধার লুকিয়ে ছিল সুকঠিন প্রহরায়
নখর বাড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করে ঘুমন্ত স্তন ঈশারায়
ঘুমরাঙা চোখে পড়ে কচকচে বালুর সীমাহীন আঁচড়
ঝাঁঝালো ঠোঁট নীল আসমান খোঁজে বহে রক্তগ্নি নহর।

মগ্ন চৈতন্যের সমুদ্র উচ্ছ্বাস

শামান সাত্ত্বিক | মে ১০, ২০১১ | ০৮:১৯ বিভাগ: কবিতা

কিভাবে যে বিচূর্ণ হয়েছি আমি মা আমার জানতেন না।
উনি জানতেন এক সত্য: যা ঘরে বসে কর লেখাপড়া।
আমি শামুকের চলা দেখেছি, জানালা গড়িয়ে প্রায় পুকুর দুপুর
নাহার আপার স্নিগ্ধতা মেখেছি ভরা বৃষ্টিতে স্নাত কুয়োর অদূর

মাকে কিছু বলিনি কখনো
দিব্যি ভোরে বিছানা ছেড়ে ছুটে গিয়ে কুড়িয়েছি ফুল
প্রিয় শিউলি অথবা বকুল।
প্রথম যেদিন পাহাড়ে উঠেছি
নিয়েছি ফুসফুসে বাতাস, শৈশব প্রাণে প্রদীপ্ত প্রবাল

দর্পভরে তাকিয়ে চারপাশ
পাহাড় শীর্ষ চূড়ে দাঁড়িয়ে
প্রতিজ্ঞায় শাণিত হয়েছি
দৃষ্টিসীমায় থাকা বাড়িঘর সব হয়ে গেছে ছোট খুব।
ছোট হয়ে গেছে আমার দূরের দোতলা স্কুল স্বরুপ।

আমি আদিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র গর্জনে
পাহাড় ছেড়ে এসে দাঁড়াই
ঢেউ উচ্ছ্বাসে নিমগ্ন হই
ভেসে আসা মার ভৎর্সনায়
সম্বিত ফিরে এলে শুনি
মা ডাকছেন আমায়
স্কুল ঘরের খুব কাছে বসে থেকে ঝিমধরা দাওয়ায়
মগ্ন চৈতন্যের সমুদ্র উচ্ছ্বাস দূরের হাওয়াতে মিলায়।

সাগর রাতের রুদ্ধ জলোচ্ছ্বাস

শামান সাত্ত্বিক | মে ০১, ২০১১ | ০৯:০৪ বিভাগ: কবিতা

চলমান তাপকে আমি বুকে তুলে নিয়েছি
উপলব্ধি করিনি সে তপ্ত তাপের আঁচ
শিউলী ফুলে ঢেকেছে মরুর শ্যামা শরীর
পোঁচ তুলে হৃদয়ে দিপালীর রক্ত আভ।

সফেদ শুভ্র শাড়ীর ভাঁজে জল জোৎস্না বিম্বিত
আমাকে গ্রাস হতে দেয়নি সে –
কলস নিতম্ব লুকিয়ে তার জরী ঝলমল সাজ

কী করে জানবো জোৎস্না জল খেলছিল খেলা
রূপালী বুকের কুমুদ, অনল অধরে ছোঁয়া
তৃষিত হাহাকার দেখো যদি সাররিয়েল দুপুর
ডালিম রসে সিক্ত হৃদয় স্বচ্ছ কাঁচ তিক্ত ভঙ্গুর

গোলাপ চাও নিতে তুমি? ক্রিমজন গ্লোরী? কোরাল বিউটি?
হুল ফোঁটাবো তবে আজ আমি – পিংকিশ, বিউটি কেয়ারফ্রি

বুঝি, পাখা মেলে উড়ে যাও কবিতার মুক্ত নীলাঞ্চলে
গুণ টানি বুক খুলে নিঃশেষে আমি, বালুময় তট ঘেঁষে

চাও কি নিতে কিছু আরো
কোরো না দেরী আর
দেখো সূর্য এখনো প্রক্ষেপিত বিষুব উত্তর কর্কট।
আসুক নেমে চাঁদ, সাগর রাতের রুদ্ধ জলোচ্ছ্বাস।

কে তুমি এলে রাত দুপুর

শামান সাত্ত্বিক | এপ্রিল ২৩, ২০১১ | ১৭:৪৬ বিভাগ: বিবিধ

কিছু ঘটে কিছু ঘটে না
কিছু ঘটে মাঝে মাঝে
ঘটে হৃদয় তেপান্তরে –
কবিতা হারায় ছুঁয়ে দেখার আগে
বিস্ময় জাগে
জেগে উঠি দিন শেষে রাতে
হৃদয় বিলোপ কবে হলো শরত শুভ্র কারাগারে

সিদ্ধ শীতে –
হিম যন্ত্রণা নিয়ে উপভোগ করি শীতল বিষণ্ণতা
অন্ধ ঘরে কপাট খুলে জেনে নিই, ছিলাম মানুষ কি না?
মানুষ ছিলাম কি না?

হে বিধৌত বিষাদ অন্তর –
আমাকে বিদীর্ণ বিচূর্ণ বিতাড়িত করেছে সে এক মোহন মায়া
আমাকে ভস্মীভূত করেছে জল অনলে এক ত্রিকাল দীর্ঘ ছায়া
আমাকে উন্মূল করেছে স্বদেশ, এক বিরহী প্রিয়া কাজল কায়া

আমি হাঁটি, হেঁটে যাই, চলি হেঁটে
আমি খুঁড়ি, খোঁড়াই, চলি খুঁড়িয়ে
আমি দৌঁড়াতে গিয়ে হোঁচট খাই, মুখ থুবড়ে পড়ার আগে উঠি, দাঁড়াই

ঘোরের মাঝে আমাকে সেঁধিয়ে দেয় নেমে আসা ছান্দিক তু্ষারের তুলো
অনিকেত করে তুলে আমাকে গাঢ় গহীন আঁধার লুক্কায়িত ধূসর আলো

আমি স্ট্রেটচারে শায়িত, সারা শরীর কাটাছেঁড়া হয়
পিত্ত লাল রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে গড়ায় ধবল তুষারময় –

ঋণে জর্জরিত আমার শাপান্ত শীর্ণ জীবন
দুপুর রাতে এলে কে তুমি
আমাকে জাগিয়ে তুলে রেখেছো চরম
দুর্মুখ দুর্দান্ত দুরন্ত হে মাধুরী যৌবন।।

শ্রাবণে পৌঁছি রাঙামাটির বন

শামান সাত্ত্বিক | মার্চ ৩০, ২০১১ | ২২:৪১ বিভাগ: কবিতা

কী নেশা! এক থেকে অন্য, অনন্য এক –
অবিনাশ অনন্তকাল অনড় অবশেষ।

কুন্ডলী পাকায় ধোঁয়া
হেলান দেয় দেলানে
নদীর জলে কাঁপন দ্রুত
পোকামাকড়ে হা পিত্যেশ।

জলের আঁচড়ে লন্ড-ভন্ড
প্রাণহীন দু’দিগন্ত দ্বিপ্রহর।
বিচ্ছুরিত আলোয় হৃদয় কোমল স্পন্দন
জল জ্বলে না এখন –
লুকায়িত মিথ্যা অনর্থক অসাড় আলাপন

স্তিমিত আকাশ শিখা বহ্নিমান
বিস্তীর্ণ বিশাল ধূ ধূ খর প্রান্তর
রক্তিম আলোক বিকিরণ
বিরূপ উচ্চারণ শীত কুয়াশার আবাহন
সেই
শ্রাবণ ছুঁয়ে পৌঁছে যাই রাঙামাটির বন।।

বুকে ধম ধমা ধম মাদল

শামান সাত্ত্বিক | মার্চ ২৩, ২০১১ | ২৩:২২ বিভাগ: কবিতা

মরা পচা মৃত
চারিদিকে শত শত।
চোখ খুললেই দেখি

উত্তাপ উল্লাসে মাতি
হাওয়ায় দুলে শ্বেত শুভ্র বাড়ি
চাঁদকে হাতের কাছে ছাড়ি।

ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে স্বর্গীয় সুধা
নারীর চোখের পাতা, ঠোঁট – মুখের কোমলতা
নিঝ্‌ঝুম ঝুম বৃষ্টিতে কাঁপা
তারপর

শূন্যে সকাল ভাসা
অথৈই নিঃসঙ্গ নীরবতা
নিজেকে নিয়ে খেলি
নিঃশব্দে চাবির গোছা তুলি
আবার

জল জোছনা জল
টসটসে নদীর ছল
ঝিলিক তুলে ছুটে মাছ পল পল
বুকে বাজে বড় ধম ধমা ধম মাদল।।

উড়ে যায় পালাকার বিস্মিত যমুনায়

শামান সাত্ত্বিক | মার্চ ২০, ২০১১ | ২২:৩৮ বিভাগ: কবিতা

ফাগুন আকাশ বরফে ঢাকা
মৃত শব ঢেউ তুলে আঁকা বাঁকা

ধূসর মগ্ন প্রভাত কোমল শীতলমাখা
গর্জিত প্রান্তরে স্রোতস্বিনীর থমকে থাকা

রয়েছে বিক্ষেপ, দর্পচূর্ণ আমার, অরুদ্ধ অশ্লেষ
কাঁপে ফাঁপে স্ফুলিঙ্গ পড়ে চাপা ঢাকে গতিবেগ

আজ আমার স্বর উচ্চারিত তোমার স্বরে
মুছে দিলে না ক্লান্তি গহীন রাত্রির স্পর্শে

হবো না বিবাগী আমি অমৃত জোছনায়
বিষণ্ণ অশব্দ আনন্দে
উড়ে যায় পালাকার ঘর ছেড়ে বিস্মিত যমুনায়।।

ঈশ্বর প্রেমে পড়েছিল

শামান সাত্ত্বিক | নভেম্বর ২৯, ২০১০ | ১৩:১৪ বিভাগ: বিবিধ

শোনো ঈশ্বর না কি প্রেমে পড়েছিল সেদিন
পেড়েছিল দু’টো ফল –
ইভ এবং অ্যাপল
বাঁ মুঠোয় তার ইভ
আর অ্যাপলটা সে খেলো
সাথে সাথে এ পৃথিবীর জন্ম হলো।

তাহলে ইভ?
ঈশ্বর প্রেমে পড়েছিলো বাঁধা?
লেখা ছিলো না কোথাও তা
পবিত্র গ্রন্থ হৃদয়ে গাঁথা।

সত্যি ঈশ্বরের প্রেম ছিল
তিনি জানতেন বলে প্রেম
আদমের সাথে মিশে ছিল হাওয়া
হাতালে ধর্মগ্রন্থ খুঁজে যায় পাওয়া।

শেষে একদিন ঈশ্বরের কাছে
আদম এলো হাওয়াও এলো
প্রেমের হিসেব পেতে চাইলে
আদম থেকে ঈশ্বর
সে হিসেবে ফাঁকা কোন পেলো না
হাওয়া থেকে নালিশ বা অভিযোগ

ঈশ্বর পড়লো বিপাকে বড়
ধ্বংসের ধ্বজা উড়লো আকাশে
উড়ে প্রজাপতি মরে চাপা পড়ে।

আমি আমার পূর্বপুরুষ

শামান সাত্ত্বিক | নভেম্বর ২২, ২০১০ | ১৩:২৯ বিভাগ: কবিতা

হলুদ রঙ। হলুদ ধূসর কটকটে সবুজাভ।
মাকে আমার করেছে বেষ্টন।
উন্মূল স্মৃতি হারানো বিরূপ বদ্ধ রাতের ঘোর মাহেন্দ্র ক্ষণ।
ঘুমন্ত বিভোর দন্ডায়মান মা স্বপ্নভূত জাগরণ
খুঁজে ফেরেন কোন এক পবিত্র সময় সন – অরণ্য রোদন।
ধরায় নেমে আসুক তারচে’ আঁধার ঘোর শ্রাবণ।।

আমার পিতৃব্য ও পিতার ক্ষুণ্ণ মন
ঠাসা ব্যর্থতায় অন্তরাত্মার কাঁপন
জলোচ্ছ্বাস প্লাবন মন্বন্তর ধ্বস ধ্বংস দুর্ভিক্ষ দহন
পারে নি নিতে তুলে হাত সবল
কাস্তে কোদাল কুড়াল লাঠি সড়কি বা বল্লম
কুঁপির আলোয় চোখ মেলে কমনীয় নারী তার অপরূপ লাবণ
অগ্নি স্নানে শুচি হন পিতা পিতৃব্য প্রতাপ পুরুষ পরম
ছোপ ছোপ অন্ধকারে নিমজ্জিত ঘরের কোণ আমার জন্মগ্রহণ
সোঁদা গন্ধে মিশে থাকে সকাল দুপুর রাতের তীক্ষ্ণ বুনো রণন

একদা দা টা উঁচিয়ে ছিল। কৃপাণটা নেমে এলো দৃঢ়
পাখিটা উড়ছিল, ঝাপটালো হাওয়া
ডাকে না পাখি আর। অদীপ্ত ভঙ্গির দীপ্ত চিৎকারে চতুর্পাশ জ্বলে খাক
খালটা ছিল চওড়া। থাকেনি থেমে স্বচ্ছ পানির বহমান লোহিত ধারা
লেগে থেকে সবুজ শ্যামলে পাতায় ফুলে মাড়ি মড়কে আবারও খরা।

এক সময় নেমে এলো রূপালী চাঁদ হাতের তালুয়, সানকির পানি গড়াগড়ি খায়
যেখানে মিশবে এসে মাগুরের ঝোল সীম, শীতের আলু – ঢেঁকি ছাটা আউশ দলা
কুয়াশার চাদর জড়িয়ে নেবে আমার ধমনীর নিরুদ্দীপ্ত শোণিত ধারা
উষ্ণ রক্ত হিমানী শির শির স্পর্শ পায়, তারপর আবেশায়িত কোন মায়াবী
রাতে ঝির ঝির বসন্তের গান শোনায়। সেখানে আমার শৈশব নতুনের দেখা পায়।

সব ভূতুড়ে জঙ্গল

২২ অক্টোবর ২০১০, ১৮:০১

আগুনের দিকে ছুটে চলা – আগুনমুখো
শসা সদৃশ লম্বা সার্কাসের সেই তরুণী
টলটল চোখ জলজল চাহনি
উর্ধ্বে বিচ্ছুরিত অগ্নি নিঃসৃত মুখোগহবর
সাউথ’মেরিকান ব্রাজিলীয় তীব্রতা
কাঁচের স্বচ্ছ গড়ন।

ছুটে জোৎস্নায় সে সমুদ্র মন্থন
ঢেলে দেয় বিষ দেহ দহন
চেতনারা বিলুপ্ত, নির্বোধ নিস্তেজ নিথর মৌণ কথন।
অবশ শরীর, বলে গেলে না বলে গানে
সেই রাত্রির ঝাঁঝালো ক্ষণে
দেখা হবে আবার সাগর সঙ্গমে
মাছেরা খেলে গভীর সংগোপনে
সঁপে সব দেহ মন।
উড়ে গেল সে –

ভয়াবহ গর্জন তুলে ছুটে চলে
মেলে ডানা আকারহীন তস্কর
খুঁজে তার ছায়া পলে পলে
মোহাচ্ছন্ন রাতের নগ্ন প্রহর
সে এখুনি বসাবে কাপুরুষ ছোবল –
শুভ্র শুদ্ধ সফেদ শত্রু, সহজ সরল।

নিথর শরীর সাহসে শক্ত কম্পমান
দক্ষিণ সাগরমুখো সবলে ধাবমান
যেতে পথে দেখে অসার সারি তস্কর উলঙ্গ দঙ্গল
ঝুঁকে উঁকি দেয় এই বিস্তৃত আকাশ লেলিহান ফসল
হোক সরানো, এখনই –
পরগাছে থরে থরে ভরে গেছে সব ভূতুড়ে জঙ্গল।

প্রকোষ্ঠ গভীর আন্ধার

০৫ জুন ২০১০, ১১:৪৫

লেলিহান শিখায় প্রোজ্জ্বল নিটোল ফুসফুস
লোহিত কণায় মেশে আলকাতরা তরল

মধুমাস মধু কই
বিকারহীন রৌদ্রঝিম আকাশ।
ঋণ দিলে না
ছায়াশীতল স্নিগ্ধ কাঁঠালকোণ ঘুরঘুর ঘুঘু দোয়েল কইতর।

কাঠের কয়লা খন্ড অখন্ড
সোনালী স্ফটিক আগুণকুন্ড
জ্বলজ্বলে জ্বলে জ্বালা
গরম চিমনি নির্গম ধোঁয়া
লিচু রঙ চোখ টসটসে আম রসে ভরপুর গাল
জাম রঙ রঙিন ঠোঁট কোষ কাঁঠাল।

ভূতুড় নৃত্যে কালের কন্ঠ চেপে হাসে বিজয়বেশ পিচাশ
ঝুলন্ত কুকুর জিভ কম্পমান কালচে লোহিতে উষ্ণ উদগিরণ
ধমকে ধমকে তোলে ধমক বাদুড় ছোটে গাঢ় আঁধার
এখনো হয়নি জন্ম আমার

টপ টপ বৃষ্টি ঝরে ঝির ঝির
গজে উঠে ছাতা এধার অধীর
পরাজয় জানে না আর –
সারি সারি কাতার কাতার
নীরবে দাঁড়ায় দুয়ার –
প্রকোষ্ঠ গভীর আন্ধার।

অহংকারের শূন্য জালে

Facebook Note by Shaman Shattik on Tuesday, July 26, 2011 at 2:51am

গভীর জলে খেলছে শুয়ে দোর্দন্ড রোদ আলো
সাঁতার পুলের দুপুর শরীর আবছা আবছা চতুর কালো
কন্যা মৎস্য, তুমি তিমি হয়ে খেলছো খেলো

আমার শরীর জুড়ে লম্বালম্বি উঁইয়ের উঁচু ঢিবি
অবিরাম বৃষ্টি ঝরে কামড়ে ত্বক উঁইয়ের সারি
নেও না কেন আমায় তুমি ছোঁ মেরে জলের তলে
দিচ্ছো ফেলে ধাক্কা মেরে অহংকারের শূন্য জালে।।

সাম্প্রতিক সময়ের কবিতাগুচ্ছ

সাম্প্রতিক সময়ের কবিতাগুচ্ছ

মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাওয়া

আমরা একটা মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছি
সেদিকে তাকাবার কারো ফুরসত ছিল না
আমরা একট গভীর বসন্তকে জড়িয়েছি
হৃদয় আকুল খোলা জানালায় রঙের মূর্ছনা
আমরা যখন উঠোনের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে থাকি
কে যে পিছু নেয় ফিরে তাকিয়ে হদিস মেলে না

তারপর জং ধরা এক গেইট খুলে ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়েছি
অনেক দূর থেকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ এলেও
একদলা শান্ত নীরবতা ঘরের ভেতরে বিরাজিত
জানালার শিক গলিয়ে বাড়ির বাগানে
আমরা নেমে পড়ি
এক কোমল প্রত্যাশায় ভীত-তটস্থ খরগোস শাবক
আলতো কোলে তুলে নিলে
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও স্নায়ুতে ধবল রাত নেমে আসে

বিছানায় যাই আমি
আরামে কাতর নেশায়
তোমার যুগল স্তন ভাঁজে
ডিঙ্গা নাওয়ের উন্মাতাল প্রবাহে স্থির হই

মৃত্যুরুপী সাপ বাসর অবধি ছিদ্রান্বেষণে ব্যাপৃত।

বেঘোর বসন্তে শ্রাবণ ধারা

একটা বেদনাকে ধারণ করে এগিয়ে চলছিলাম আমরা
সে সময় কিছু রমণী এসে হাজির হলো
তারা খুব সুসজ্জিত ছিল
তাদের বেশবাস সাজ-সজ্জায় পুরুষের অনেকেই
হাওয়ায় ভেসে ভেসে বেলুনের মত উড়ছিল
কারো কারো মুখ সুইস চকোলেটে ভরে গেলো
কেউ কেউ মনে হলো এখনই ডাচ পনিরের স্বাদ মুখে পুরেছে
কারো কারো শখ হলো উঁচু সাঁকো থেকে ঝাঁপ দিয়ে
নদীর জলে ডুব সাঁতার দেয়।

এভাবে সবাই যার যার নারী নিয়ে দূরে সরে গেলে
অবশিষ্ট একমাত্র নারীটি মিটিমিটি হেসে তাকালে
আকাশের তারাগুলো খসে এক এক করে
চোখে এসে তার জড়ো হতে লাগলো।

শ্রাবণ ধারা বেঘোর বসন্তে বয়ে চললো।

শূন্যে ভাসে লোহিত কমল

পাখীর পালকের মতো উড়তে শখ হয়েছিল বালকের মুষ্টিবদ্ধ হাত।
আকাশের সিঁড়িতে সে রেখেছিল তার কোমল পদস্পর্শ
সুগন্ধি রাত গন্ধ বিলিয়ে গেলে হাস্নাহেনার
মেঘের রাজ্যে ভেসে বেড়াল মৃত নারীর শরীর

চারদিকের কুয়াশা ঘেরা অরণ্যে রঙের হোলি খেলা
সূর্যরশ্মির সাতরঙের বাহার
শিশুকে ধরে বেড়ে উঠেছিল প্রজাপতি যে
তারও ইচ্ছে হলো ‘খুন নেশায় মাতি’
সবচে’ সহজ মৃত্যুবরণ ছিল ভ্রূণের
মা হতে পারতেন যিনি – হয়েছেন তীক্ষ্ণ বদন মলিন

শূন্য থেকে আসে মানুষ, শূন্যে যায় মিশে
আসতে পথে পেয়াদা-পাইক শূন্যে বেড়ায় ভেসে।

বন্ধ হয়ে আসে নিঃশ্বাস

জানলার পর্দার ফাঁক গলে এক প্রস্থ সূর্যালো ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল দেয়ালের উপর
আমার মরু উদ্যানে পৌঁছে যাবার সময় হয়ে এলো।
নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ছেড়ে উষ্ণতা আমায় ধাবিত করলো।
করমন্ডলে এক ভৌতিক বিষাদ আচ্ছন্ন হলো।

আমি উড়ালাম পাখা নেমে যেতে গভীর হ্রদে
যেখানে দৃষ্টি রেখে সুউচ্চ প্রভাতে মেতেছিল পাখিরা ওড়াওড়ি খেলায়
আমি বাড়ালাম হাত চলছিল রঙিন ঘুড়ির ওড়াওড়ি দু’দিক হতে
আমার স্পর্শের ইচ্ছায় নিলো ঘুরিয়ে মাথা তারা
ভেজা বাতাস সপাৎ সপাৎ চললো ঘুড়ির ওড়া

ডানা ঝাপটিয়ে ক্লান্ত আমি উড়ে যাই
খোলা আকাশ এত্ত ভেজালো বাতাস
তবুও কেন বন্ধ হয়ে আসে নিঃশ্বাস।।

তখনো বেঁধেনি সূতীক্ষ্ণ ত্রিশূল

অন্ধঘরে উলঙ্গ হাতড়াতে থাকেন সকরুণ এক নায়িকা
ধানের গোছা কেটেছিল সে কাস্তের শাণিত ধারে
সূর্য ঝলসিয়ে দিয়েছে তার গতরের ফলা
তবুও শিশিরের ফোঁটা পড়ে লবণ ঘর্মাক্ত দেহজ ভাঁজে

একদিন নেমে গেছে সে চৈত্র শেষের সুমধুর জ্যোৎস্নার
আঁধার আলিঙ্গনে
কথা দিয়েছিলো ছিনিয়ে নেবে বসন্ত শেষের উৎসব
অনেক পাথর এসে জড় হয় ধাবমান জলের
দুরন্ত খেয়ালী স্রোতে
তখনো আঁধারে জড়ো হয়নি স্ফটিক তারা
সন্ন্যাস সৌরভ নিয়ে মেতেছিল একদল ভিক্ষু শুধু
চাঁদের আঙ্গিনায় রেখেছিল তাদের রুপোলী ধূপ
মহৎ সাঁতারে পেরিয়েছিল বিজন বিশাল দুর্বিনীত নদ
দু’চারটে দাঁড়কাক স্তব্ধ নয়নে করছিল হা-পিত্যেশ

জলবসন্ত সেরে গেলে ‘পর
নায়িকা নেচে উঠে তীব্র প্রখর ছন্দে
কিন্তু গ্রীবায় তার তখনো বেঁধেনি সূতীক্ষ্ণ ত্রিশূল।

নেচে উঠে ঢেউ গাংচিল

গভীর সমুদ্রে নেচে উঠে ঢেউ গাংচিল, মোহন ছন্দে
ফ্যাকাশে আলোর বাতিঘরের
চাঁদই দেখিয়ে নেয় পথ
ধাবমান জলের আস্তরণ খুলে বেরিয়ে আসে
দিগন্তের সুদূর হাতছানি

জলের উপর মৎস্য কন্যার দীঘল মুরতি
দ্যোর্দন্ড আহবান
বৃদ্ধ নাবিকের সতর্ক সংগ্রাম
নিয়ন্ত্রণ-দৃঢ় তার সমুদ্রযান
বিদ্বেষ ছুঁড়ে পরীকে জলের
জলের পথে সামলে বাধা দ্বন্দ্বে বেখেয়াল
রাতের আকাশে তখন
শিলার বর্ষণ নামে
দূরন্ত অন্ধ প্রবাহে
অতল আঁধারে লেজের দাপটে মাতম শুনে জলের।
দিকভ্রান্ত হয়ে নাবিক

স্রোতের মধ্যে ছেড়েছি নীল

স্বপ্নীল শ্রাবণে তুলে নিয়েছে স্বপ্ন স্বপ্নীল কিছু স্রোত
স্রোতের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছি একবিন্দু নীল
স্রোত হয়েছে ফেনিল, উত্তেজক, ধাবমান দূত
সংঘর্ষে নমিত হয়নি পাথরখন্ডে স্রোত
উত্তেজনায় ভেসেছে প্রবল
নদ-নদী প্রান্তর পেরিয়ে
চিনেছে সাগরকে শেষমেশ
সেখানে জ্বললে চোখ
নির্বাণলাভে উড়ে আকাশে
মেঘের কোলে লুকিয়ে মুখ
নিঃসীম অন্যালোকে পদার্পণ।।

মুষ্টিবদ্ধ করণই চরম অর্জন

মানুষ ভাসাতে জানে
ভাসিয়ে দিতে জানে তুলে ঢেউ
ভুল বোঝা ছিল গদ্যে পদ্যে
সৌন্দর্যগুলো ছড়িয়ে দিয়ে
তুলেছিলাম শিশির সুরেলা ঠোঁটে

সিক্ত শিশিরে মাখামাখি হলে
জমে গেছে ধবল কালো পিতলা রঙে
দু’চোখ তোলে এঁকে ফেলে নিজ পরিচয়
জানিয়ে দেয় দুপুর বাতাসে
সব কিছুই রয় মুঠোয় হাতের

পাশে দাঁড়িয়ে ধবল অবয়ব ঢেউখেলা লাল প্রলেপ
নিতে চেয়েছিল
রাতের গভীর তারল্য
তার উঁচু পর্বত – এখনো হাওয়ার ঝিরঝিরি গুঞ্জন
জানিয়ে দিলো সে
জ্বলন্ত বিদ্যুৎকে –

জীবন ধারণ নয়
মুষ্টিবদ্ধ করণই চরম অর্জন।।

ঢেউ তুলে বিপন্ন প্রহর

বিস্ফোরণ বুকে বেঁধে দ্রুত অপসৃয়মাণ সন্ধ্যায়
সান্ধ্যভাষায় জানাজানি হয়
শোণিতে তুলে দেবে গর্জন কতদূর, ভাবেনি

সৃষ্টির শেকড় যদি করো উন্মূল
নতুন বীজ বপন হবে কি
ওহে সোনার উঠোন

সলাজে বেঁধে দানা
পতন কতটুকু ঘটাবে তার
উর্মিমুখর শস্যের প্রখর প্রভাতে

উতলা নারীর ঝর্ণায় ঝরে যদি বৃষ্টি
তাতে কাতর স্বরে ভস্মীভূত হবে না জানি
উদ্দীপ্ত নহরে বইতে থাক হাওয়া
ধানের সারি সারি আঁচলে
ঢেউ তুলে বিপন্ন প্রহর।।

তন্ত্র গভীর কথন

সেলাই খুলে গেলে সূতো উঠে আসে
রঙগুলো তখনও থাকে রঙ-চঙে
জোয়ার এলে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে একাকী
শিশুর নেই রিরংসা কোন

সোনালি এক বিকেলে নদীর পাড়ে
দাঁড়িয়ে শিশু দেখেছিল
কৃষ্ণচূড়া ফুলের ভেসে আসা
কূলে নেমে স্পর্শ করার ইচ্ছে
সংবরণ করে রেখেছিল মাত্র দু’দিন

তারপর আলোক জোৎস্নায় জলে
চাঁদের প্রতিবিম্ব দেখে
মনে পড়ে অনেক অনেক অনেক রাতের ভীড়ে
চর্যা গুরুগোষ্ঠীর সাধনতন্ত্রের সুগভীর কথন।

অটিস্টিক বালক

কখনো কখনো মৃত্যু দেখে আনন্দে হেসে উঠে অটিস্টিক বালক।
এমন খুশির ফোয়ারা তার চটুল ঠোঁটে কখনো আসেনি আর
মৃত্যুর কোমলতা বেঢপ অবয়বে স্নিগ্ধ নিপুণতায় তোলে বান
শরীর ঝাঁপিয়ে কাঁপুনি – বিরহী যক্ষের যাতনার বিদীর্ণ গান
মৃত্যুকে সে চেয়ে চেয়ে চেখে, মেলে নয়নে নয়ন আসমান

কুয়াশা ঝরানো হাসি নিয়ে মিশে ছিল বালক
গহন সমুদ্রে বেড়ে ওঠা মাছ তারার সাথে
কোলাহল খুনসুঁটি ভরে ছিল জলজ অরণ্যে
জলের পাপড়ি ঠেলে জমে এক মায়ার ইথারলোক
দূর দৃশ্যে চেতন ফিরলে চরকির বেগে মিলায় বৃত্তে

সে বালক এখনো দুপুর রাতে মাছেদের পিছু ছুটে
আঁশটে মাছের শরীর বাঁধে ঠোস ওঠা চর্মকোষে।

বারুদ বাতাসে ঝকমকে ধীর

সুবেশী চাঁদপনা রুপ পেলে
কেনে তুমি এমন
এমন সপাটে ছুঁড়ে গুলি
পাল তোলা তরী ছিঁড়ে
বায়ু বহে সবেগ

শূন্য থালা তুলে রেখে
চাঁদের জানালায় রাখি মুখ
তুমি এন্তার এনেছো বারি
বরিষণ প্রচুর

খরগোস মোলায়েম
চুমু রাখি কপোলে
রাগিনী তরঙ্গিম।

বঙ্কিম হাসি মেলে
খরগোস খর পায়ে
চৌঁচির চির চির
বারুদ বাতাসে ঝকমকে ধীর
গতিটা অস্থির।

ঝলসানো চাঁদ নামালি রুপোলি রাত

ঝলসানো চাঁদ কেন তুই নামালি এই রুপোলি রাত
কেন তুই নিলি ছিঁড়ে নিঝ্‌ঝুম দুপুর
কেন লাগাম ছিঁড়ে দিলো ছুট ষাঁড় উন্মুখ
কেন উরুতে রেখে মুখ রাতের নিদারুণ দুখ
কেন ভাবে আসে সম্ভোগ পদ্ম গহীনপুর
ঝলসানো চাঁদ জ্বালালি শূন্য পেয়ালা ধূমায়িত বিস্বাদ
নিঝঝুম রুপোলি রাত।

মাছেরও ঝরে রঙ সমুদ্র অতল
ছিল ভরা গোপন চিঠি ভাসে নীলাভ বোতল
কেন তুই নিলি টেনে জোয়ারের উন্মত্ত জল
বসালি নখড় রাক্ষুসে নামে উচ্ছ্বাস ঢল

ঝলসানো চাঁদ বুকে নামে মরু-বর্ষা জল আকাল
খুঁজি তার হাত ছুটি আশ-পাশ অনন্ত উদাস
ছুঁয়ে তাকে বেজেছে বাঁশের বাঁশি
স্বপ্নালু দু’চোখে শুধু রঙ মাখি

ঝলসানো এ রুপোলি রাত
মিশেছে বায়ুতে কী বিষাদ প্রপাত
জলে আমি গেছি নেমে শূন্য চৌঁচির
পাখিগুলো গেছে ভুলে শিস্‌, শিহরিত নয় আহা একটুও ইস্‌।।

আড়ং ও অরণ্যের উৎসব

নিঃশব্দ চাঁদের পাশে আলো জ্বেলে বসেছিল ভাবুক রাত
ঊষর মরুতে বায়ু বয়, বয় বিষণ্ণ বিদ্রুপ প্রপাত
এন্তার নিয়ে খবর উড়োজাহাজ নামে
বুটধারী বলিষ্ঠ ধারালো পদভার

রাতের কোলাহলে সম্বিত ফিরে
ভীরু পাপে আঁকি উঁকি তোলে
বাজখাই বিকট আওয়াজে বিদীর্ণ বিলাপ
বিশ্বস্ত বিরাট জনপদের ক্রম বিলীয়মান সাজ
 
তখনও দুরন্ত দুপুর রাতে বালক
ভিডিও গেইমে মাতে
সংহারে সমাচ্ছন্ন অবিরত
বীভৎস বিদঘুটে নির্গুণ দৈত্য ও দানো

বায়ু হলে নির্গত বাষ্পীয় হয়ে উঠে সব রব
বায়বীর উঠোনে আড়ং ও অরণ্যের উৎসব।।

 আলো জ্বলে কোমল

নিঃস্ব রঙ্গে ঝিম ধরেছে দীপ্ত অহংকার
মুহুর্মুহু বইছে চেতন হাওয়ার রন্ধ্রে
গোলাপ পাপড়ি ঝলমলিয়ে শূন্যে
মেলছে ডানা
ভূমিষ্ঠ হতে টানছে তাকে চতুর বালক

আলোর ধারায় পতন এলো
গোলাপ পাপড়ি ঢেকে দিলো সুবোধ
সব পেঁচা উড়াল দিলো
অন্ধ আঁধারে দ্বন্দ্ব হলো
তারপর …
কালো আকাশ কয়লা গুঁড়ো মেখে নিলো
স্রোতস্বিনীর স্রোতধারায় আলো জ্বলে কোমল।

নীল স্পর্শের কাব্যত্রয়ী

নীল মেয়ের নীল সুখ

নীল মেয়েটা এত সুন্দর হতে পারে জানা ছিল না আমার একেবারেই
মিষ্টি হেসে জহরের কৌটা বাড়িয়ে দেয় আমার তালুতে
আলতো মুখে চুমু তুলে

আমি হেসে ফেলি
কৌটা খুলে ফেলি অবলীলায়
নীল মেয়ের কৌটো থেকে নীল আলো কুন্ডুলী পাকিয়ে উপরে যায় উঠে
নীল আলো পেঁচিয়ে ফেলে আমায়
চোখের পলকে নীল মেয়েটাও ধুমায়িত কুন্ডুলী রুপ নিয়ে
আমায় পেঁচিয়ে বেড়ায়

প্রান্তর বসতবাড়ী শপিংমল সব কিছু সুনসান হয়ে যায়।
প্রতিচ্ছায়া হয়ে ধোঁয়ার কুন্ডুলীতে আমি ভেসে বেড়াই স্বপ্নসুন্দর প্রত্যাশায়
পোড়ামাটির রঙে রাঙানো দালান-কোঠা রাস্তায় সাদা-কালো মৃত লাশের
শমন শোনা যায়
আমি তৃষ্ণার তহুরায় তাপিত হই
নীল মেয়ের কুসুম পেলব সুখ দিগ্‌-বিদিক আমায় নিয়ে তুলোর মত
ভেসে বেড়ায়।

ও আমার মাতাল বসন্ত বাউল দোলা

আকর্ষণের খই ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলে চিলের আকাশে, হে প্রিয়তমা
বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে নিথর শয়তান
গুলি ছুঁড়ে দেবে বলে গহীন অরণ্য আঁধারে।
বোঝনি কি তুমি তা আজ?

তোমার কৌমুদী রুপ নিটোল আঁখি
শবেবরাতের সেই মোহনীয় রাতের পবিত্র কদর
আমি তো সন্ধ্যা আলোতে সাঁতরিয়ে ছুঁই ভাসমান পদ্ম
মুঠো ভরা হাতে জমিয়ে রাখি বুক পাটাতনের বিস্তৃত সুন্দর
তুমি উড়বে এই হাওয়ার প্রপাতে স্পর্শ তুলে বৃক্ষের শাখে পাতায়

ও আমার মাতাল বসন্ত বাউল দোলা
কবে নিবে ছিঁড়ে হৃদয় শেকড় উপড়িয়ে
মগ্ন হাওয়ায় জলে ভেসে লখিন্দর-বেহুলার নীলাভ ভেলা
কখন পেরিয়ে যাবে দুঃসহ ভয়াবহ আবিল অন্ধ এ অবেলা।।

ওগো কালের তেজী সরস পুতুল

আত্মহত্যার নিমিত্তে সুউচ্চ ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল সে
কিছুটা পতনের পর নীলাভ এক প্রজাপতির স্পর্শ পেয়ে
একজোড়া রুপোলী ডানায় ভাসে নীল বেদন জোৎস্নায়।

কুয়াশার প্রলেপ মিশেছিল পোড়া সারা শরীরময়
বিছার কামড়ে বিধ্বস্থ আত্মা, কী করুণ নিঃসহায়

জোৎস্নার জলজ্যান্ত দুপুরে দুর্ধর্ষ দু’প্রজাপতি উড়ে এসে
নীলাভ যুদ্ধে জড়ায়, তাদের শরীর উদ্‌গিরিত লালায়
বারুদের গন্ধ ফোটে দীর্ণ রাতের সুকোমল শ্রী প্রভায়।

মেঘের আড়ালে উঁকি দেয় মূর্তিমান জলদ্গম্ভীর পুরুষ
বিষণ্ণ গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে তিনি আছেন অস্বস্থিকর
বেঘোর কম্পমান প্রজাপতিদ্বয়ের রক্তাক্ত চিত্ত সংহারে
বিশাল শূন্যতা বিরাজমান নিন্দিত নীরস হা-হুতাশন

একবারও জানলে না ওগো কালের তেজী সরস পুতুল
নিশ্চিত চলছিলাম দু’জন হেঁটে ঈশ্বর স্নিগ্ধ সমতুল।।

%d bloggers like this: