পুরোনো কাব্য সম্ভার

স্বচ্ছ জল আলপনা

গোলাকার বৃত্তে লেগে আঁঠালো
একটুও সরতে চাইছে না দানা দানা মানুষগুলো
কী করে যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো মহাশূন্যে হঠাৎ
কীসের আলোড়নে হলো বৃন্তচ্যূত
সে এক রহস্য।

রাস্তায় নেমে এলো জোয়ারের ঢল
পানি কেটে সাঁই সাঁই ছুটছিল টগবগে লিমো এস.ইউ.বি টয়োটা ফোর্ড
এখানে হেঁটেছিল সুতন্বী সুষমাময়ী সুশ্যামা বা সু-উন্নতা শ্বেতাঙ্গী
সুবক্ষা কৃষ্ণকলি রগরগিয়ে দুলকি চালে বসেছিল নগ্ন সফেদ অশ্বের ‘পর
ছুটছিল ধোঁয়া, জড়ানো প্রভাত প্রহরকাল নিঝ্‌ঝুম নিরন্ন ভালে
কেঁপে গেছে তুষারে সিক্ত পানি, হিমবাহে শৈত্য ধ্বনি
পতঙ্গ মরেনি এখনো, ঘনত্ব বেড়েছে তার সুষম
গর্জে ছিল আকাশ তুষার জলের সান্নিধ্যে
জলের ত্বরণে নেমেছিল আজ রাজন্যের রাজকীয় মায়া
বসে আছি আমি বরফ ধোয়া চোখে এঁকে স্বচ্ছ জল আলপনা।

দাঁড়াই জলের অতলে

আকাশের নৃত্য; নৃত্যময় আকাশে নিত্য নতুন খবর –
জলদকণা সিঞ্চিত ও অসঞ্চিত।
বারতা পাঠায় মেঘ জীবন থাকুক সোল্লাসে

ঘ্রাণে মত্ত মাতাল মৌতাতে
পূর্ণিমা রাত সশব্দে থমকে
হাইহিল স্কার্টে উথলে উঠে নগ্ন সজীব কৈশোর কোলাহল

ওদিকে দাঁড়ায় মসলিন চাতক পাতক ইশারায়
বুকের কিনারায় সরু সরু মাস্তুল খর শাবল চালায়
রৌদ্র আকাশে ঝিরঝির হাওয়া বহে মৃদু দু’কূল
ছন্দহারানো বণিক নেবে কি করা বাকিতে ভুল?

আমি আদিগন্ত ছুটি মাঠে জোনাক জ্বলানো পথে
অন্ধ আর্তনাদ ভাসাই প্লাবনে মধ্যাহ্নে আঁধার দেহে
প্রাণান্ত বাঁচতে দিই লম্ফ গভীরে খাই খাবি
ডুবে মরা জলে দেখা মেলে আলোর অতলে দাঁড়াই আসি।

ছায়া কায়া

সেখানে আমি উত্থিত হয়েছিলাম
নীরব নিঃস্তরঙ্গ নির্বাণমুখ
শুধু তাকালাম সম্মুখ
ঘেরা কাঁচের বন্ধন
আমার বিপরীত প্রতিচ্ছবি ভাসে
ভাঙ্গে চমক

একজন কাছে ছিলো
বেঁচে থাকার যন্ত্রণা মুখে নাকে গিলে
দু’চোখ বিস্ফোরিত সর্বক্ষণ,
মৃত্যু এসে ভুল বুঝে তাকে করে বরণ

সে মস্তিষ্ক হেলিয়ে চোখ উপরে নিয়ে
কী যেন কী দেখলো এক
অতঃপর নিথর নিস্তেজ শয্যায়
আশাভঙ্গের পতন হলো চিরন্তন।

শূন্যে সে দেখলো তার কায়া
চমকানোর কিছু কী ছিল, নেই জানা
পতন –
দেখে পতন আমার আমারই ছায়া।।

সোনালী আকাশে মেলে পেখম

by Shaman Shattik on Tuesday, June 21, 2011 at 9:52pm

সোনালী আকাশে পেখম মেলে উড়ে যেতে চেয়েছিল দুরন্ত এক সৈনিক
নোনাজল তুলে মুখে
কড়কড়ে নোটের গন্ধ মেখে শরীর মনে
ডুব দিতে চেয়েছিল সমুদ্র গহীনে
মুক্ত সেঁচে আনেনি

শিয়রে এসে বসেছিল এক এঞ্জেল তার
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল
ডানা ঝাপটাতো তারই মত
পৌঁছে যেতো নদীর ভরা তীর
তর তর করে পানি কেটে বয়ে চলে নৌকো সুস্থির
ধূ ধূ ধূসর দু’প্রান্তর পিছু সরে চলে, দূর দূরে ধীর

বিমর্ষ ছবি হয়ে কেন এলে তুমি দিলে দেখা
গাঢ় বিষণ্ণ দীপ্তি শান্ত দৃঢ় বাষ্পিত অবয়বে
ত্রিশ বছরের পথ খুলে গেল সমানে সামনে
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এলে পর
মিশে গেলো স্বর
ঘুম ঘুম স্বপ্নে অদৃষ্টে ওপর

কি দাপট দেখাবো বলো
স্রোত-বিপরীত ধরি হাল, শীর্ণ ছিন্ন লোপাট পাল
মস্তিষ্ক উদ্গীরিত ঘাম, রক্তে মিশে ফর্মালিন ঘ্রাণ

অঙ্গীকারের পালা ঘুচে স্বপ্নীল আকাশ ছোঁয় হাত
রঙিন প্রজাপতি ভাসছে আলোয় খুব বিষণ্ণ আজ
বিস্তৃত বিশাল লেকের জল স্পন্দনহীন – সময় অসময়
ডানা ঝাপটিয়ে ছুটে বাজ চতুর চোখ যেন নিরীহ প্রণয়।।

না বাঁচার ক্ষোভ

by Shaman Shattik on Tuesday, June 21, 2011 at 9:52pm

স্পর্শের উপর স্পর্শ তুলে শূন্যে মেলে চোখ
সে এক চতুর রোগ
ক্ষরিত হৃদয় আলো ফেলে নিপুণ অবিরত
খুঁজে নিতে পাখির রেশম পালক
এ বড় এক শখ।

পানিতে হেঁটে হেঁটে মাছের আসে ক্লান্তি।
ক্লান্তি আসে আমারও সাঁতারে জলপুলে
ক্ষণিকে মিলায় জল শিহরণ তুলে তুলে
সেও তো জলেরই তলে

ক্লান্ত দেহ অবদমিত হলে
দেখে উর্ধ্বে মূর্ত ছায়াপথ
স্মিত শখ
ঘোরের মাঝে ডুবে নিয়তির রথ
ভুলে সৃষ্ট হাতের নিপুণ গৌরব
অবশেষে পড়ে থাকে পেছনে
ফেলে রাখা হতাশার আসব।

অতৃপ্ত ক্ষুধা মরে নি যদিও
ভেসে উঠে তা রাত্রি ভোর
শূন্য বাড়ি ফিরে নিমেষেই
বিষণ্ণ অবয়ব, না বাঁচার ক্ষোভ।।

ছুঁয়ে যায় শক্তিমান ঈশ্বর

by Shaman Shattik on Tuesday, June 21, 2011 at 9:52pm

আমার ভেতরে ঢোকার সময় হয়েছে
গড়ে দেয়া পদক্ষেপ এগিয়ে যাচ্ছে
পৃথিবীর আন্দোলন প্রশমিত হচ্ছে।

সুড়ঙ্গ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেন আঁধার পেরিয়ে
ম্রিয়মান আকাশ শীষ তুলছে ভোরের বাতাসে
ব্যস্ত পথিক রাজপথ ছেড়ে উড়ে ঝড় ও জড়তায়
গন্তব্যে পৌঁছা বাকি, সময় সময়ই শুধু হাতড়ায়।

একটা হাতল খুঁজে বেড়াই আমি
জীবনভর যুঁতসই তো মেলেনি এক
কার ড্রাইভের হাতল – মানুষ ঘুরায় ডান বাঁয়
নৌকার মাঝি তার বৈঠা বায়

শরৎ আকাশে সাদা কাশফুলও হেলে দুলে ডান বাঁয়
রাখালিয়া বাঁশিতে শঙ্খ নদ পাল তুলে সুরে সুরে গায়
চোখের কোণায় চিক চিক করে জলের রুপোলি আঁচ
প্রখর রোদের সাথে মানিয়ে গেলো রোদগ্লাসের ধাঁচ।

বিরহ, বিষাদ, বিষণ্ণ ডুবে গেছে জলের শরীর তলে
অরুদ্ধ মন জেগে উঠছে রাত্রির ভরা দ্বি-প্রহরে
চেতনার সিঁড়ি বেয়ে নামে বৃষ্টি, কুয়াশামাখা আলোর ঝড়
নীল আসমান ফুঁড়ে ধাবমান তীর ছুঁয়ে যায় শক্তিমান ঈশ্বর।।

বনের আঁধার ছিল লুকিয়ে

শামান সাত্ত্বিক | জুন ১৯, ২০১১ | ০৭:৪৯ বিভাগ: কবিতা

একটা সমুদ্রাকাঙ্খা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
মনন মগজকে শূন্য রেখে আলোর মাঝে সাঁতরিয়ে ছিলাম
আমাদের যৌবণদীপ্তি হাঁটছিল জলের উপর
হাতের স্পর্শে আমাদের হৃদপিন্ড খুঁজে পাইনি।

বৃষ্টির ঝাঁজ আছে কুয়াশাকে কৌতুক করার
সেও জানে
আচ্ছন্নতা ঢাকে কিভাবে প্রিয় নারীর শরীর
শিমুল তুলার উড়াউড়ি তুষারেরও আছে
জলের প্লাবন ধারায় তুষার নেয় আড়ি

আমরা তখন বনের মাঝখানে এসে গেছি
জলকলোচ্ছ্বাসের শব্দ শুনছি।
আমরা বাঘকে কাছে এসে বসে
থাকতে দেখি।
জলের রাজা সে, জলের মাছের ভোগ তার
জলদেবতার সঙ্গে চলে রঙ্গিলা মধুর জারি-সারি

বনের মেয়ে ছুটে আসে বিধ্বস্ত ক্লান্ত চকিত
ঘুমরাঙা চোখ দেখে আতংকিত শব সুহৃদ
বনের আঁধার লুকিয়ে ছিল সুকঠিন প্রহরায়
নখর বাড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করে ঘুমন্ত স্তন ঈশারায়
ঘুমরাঙা চোখে পড়ে কচকচে বালুর সীমাহীন আঁচড়
ঝাঁঝালো ঠোঁট নীল আসমান খোঁজে বহে রক্তগ্নি নহর।

মগ্ন চৈতন্যের সমুদ্র উচ্ছ্বাস

শামান সাত্ত্বিক | মে ১০, ২০১১ | ০৮:১৯ বিভাগ: কবিতা

কিভাবে যে বিচূর্ণ হয়েছি আমি মা আমার জানতেন না।
উনি জানতেন এক সত্য: যা ঘরে বসে কর লেখাপড়া।
আমি শামুকের চলা দেখেছি, জানালা গড়িয়ে প্রায় পুকুর দুপুর
নাহার আপার স্নিগ্ধতা মেখেছি ভরা বৃষ্টিতে স্নাত কুয়োর অদূর

মাকে কিছু বলিনি কখনো
দিব্যি ভোরে বিছানা ছেড়ে ছুটে গিয়ে কুড়িয়েছি ফুল
প্রিয় শিউলি অথবা বকুল।
প্রথম যেদিন পাহাড়ে উঠেছি
নিয়েছি ফুসফুসে বাতাস, শৈশব প্রাণে প্রদীপ্ত প্রবাল

দর্পভরে তাকিয়ে চারপাশ
পাহাড় শীর্ষ চূড়ে দাঁড়িয়ে
প্রতিজ্ঞায় শাণিত হয়েছি
দৃষ্টিসীমায় থাকা বাড়িঘর সব হয়ে গেছে ছোট খুব।
ছোট হয়ে গেছে আমার দূরের দোতলা স্কুল স্বরুপ।

আমি আদিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র গর্জনে
পাহাড় ছেড়ে এসে দাঁড়াই
ঢেউ উচ্ছ্বাসে নিমগ্ন হই
ভেসে আসা মার ভৎর্সনায়
সম্বিত ফিরে এলে শুনি
মা ডাকছেন আমায়
স্কুল ঘরের খুব কাছে বসে থেকে ঝিমধরা দাওয়ায়
মগ্ন চৈতন্যের সমুদ্র উচ্ছ্বাস দূরের হাওয়াতে মিলায়।

সাগর রাতের রুদ্ধ জলোচ্ছ্বাস

শামান সাত্ত্বিক | মে ০১, ২০১১ | ০৯:০৪ বিভাগ: কবিতা

চলমান তাপকে আমি বুকে তুলে নিয়েছি
উপলব্ধি করিনি সে তপ্ত তাপের আঁচ
শিউলী ফুলে ঢেকেছে মরুর শ্যামা শরীর
পোঁচ তুলে হৃদয়ে দিপালীর রক্ত আভ।

সফেদ শুভ্র শাড়ীর ভাঁজে জল জোৎস্না বিম্বিত
আমাকে গ্রাস হতে দেয়নি সে –
কলস নিতম্ব লুকিয়ে তার জরী ঝলমল সাজ

কী করে জানবো জোৎস্না জল খেলছিল খেলা
রূপালী বুকের কুমুদ, অনল অধরে ছোঁয়া
তৃষিত হাহাকার দেখো যদি সাররিয়েল দুপুর
ডালিম রসে সিক্ত হৃদয় স্বচ্ছ কাঁচ তিক্ত ভঙ্গুর

গোলাপ চাও নিতে তুমি? ক্রিমজন গ্লোরী? কোরাল বিউটি?
হুল ফোঁটাবো তবে আজ আমি – পিংকিশ, বিউটি কেয়ারফ্রি

বুঝি, পাখা মেলে উড়ে যাও কবিতার মুক্ত নীলাঞ্চলে
গুণ টানি বুক খুলে নিঃশেষে আমি, বালুময় তট ঘেঁষে

চাও কি নিতে কিছু আরো
কোরো না দেরী আর
দেখো সূর্য এখনো প্রক্ষেপিত বিষুব উত্তর কর্কট।
আসুক নেমে চাঁদ, সাগর রাতের রুদ্ধ জলোচ্ছ্বাস।

কে তুমি এলে রাত দুপুর

শামান সাত্ত্বিক | এপ্রিল ২৩, ২০১১ | ১৭:৪৬ বিভাগ: বিবিধ

কিছু ঘটে কিছু ঘটে না
কিছু ঘটে মাঝে মাঝে
ঘটে হৃদয় তেপান্তরে –
কবিতা হারায় ছুঁয়ে দেখার আগে
বিস্ময় জাগে
জেগে উঠি দিন শেষে রাতে
হৃদয় বিলোপ কবে হলো শরত শুভ্র কারাগারে

সিদ্ধ শীতে –
হিম যন্ত্রণা নিয়ে উপভোগ করি শীতল বিষণ্ণতা
অন্ধ ঘরে কপাট খুলে জেনে নিই, ছিলাম মানুষ কি না?
মানুষ ছিলাম কি না?

হে বিধৌত বিষাদ অন্তর –
আমাকে বিদীর্ণ বিচূর্ণ বিতাড়িত করেছে সে এক মোহন মায়া
আমাকে ভস্মীভূত করেছে জল অনলে এক ত্রিকাল দীর্ঘ ছায়া
আমাকে উন্মূল করেছে স্বদেশ, এক বিরহী প্রিয়া কাজল কায়া

আমি হাঁটি, হেঁটে যাই, চলি হেঁটে
আমি খুঁড়ি, খোঁড়াই, চলি খুঁড়িয়ে
আমি দৌঁড়াতে গিয়ে হোঁচট খাই, মুখ থুবড়ে পড়ার আগে উঠি, দাঁড়াই

ঘোরের মাঝে আমাকে সেঁধিয়ে দেয় নেমে আসা ছান্দিক তু্ষারের তুলো
অনিকেত করে তুলে আমাকে গাঢ় গহীন আঁধার লুক্কায়িত ধূসর আলো

আমি স্ট্রেটচারে শায়িত, সারা শরীর কাটাছেঁড়া হয়
পিত্ত লাল রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে গড়ায় ধবল তুষারময় –

ঋণে জর্জরিত আমার শাপান্ত শীর্ণ জীবন
দুপুর রাতে এলে কে তুমি
আমাকে জাগিয়ে তুলে রেখেছো চরম
দুর্মুখ দুর্দান্ত দুরন্ত হে মাধুরী যৌবন।।

শ্রাবণে পৌঁছি রাঙামাটির বন

শামান সাত্ত্বিক | মার্চ ৩০, ২০১১ | ২২:৪১ বিভাগ: কবিতা

কী নেশা! এক থেকে অন্য, অনন্য এক –
অবিনাশ অনন্তকাল অনড় অবশেষ।

কুন্ডলী পাকায় ধোঁয়া
হেলান দেয় দেলানে
নদীর জলে কাঁপন দ্রুত
পোকামাকড়ে হা পিত্যেশ।

জলের আঁচড়ে লন্ড-ভন্ড
প্রাণহীন দু’দিগন্ত দ্বিপ্রহর।
বিচ্ছুরিত আলোয় হৃদয় কোমল স্পন্দন
জল জ্বলে না এখন –
লুকায়িত মিথ্যা অনর্থক অসাড় আলাপন

স্তিমিত আকাশ শিখা বহ্নিমান
বিস্তীর্ণ বিশাল ধূ ধূ খর প্রান্তর
রক্তিম আলোক বিকিরণ
বিরূপ উচ্চারণ শীত কুয়াশার আবাহন
সেই
শ্রাবণ ছুঁয়ে পৌঁছে যাই রাঙামাটির বন।।

বুকে ধম ধমা ধম মাদল

শামান সাত্ত্বিক | মার্চ ২৩, ২০১১ | ২৩:২২ বিভাগ: কবিতা

মরা পচা মৃত
চারিদিকে শত শত।
চোখ খুললেই দেখি

উত্তাপ উল্লাসে মাতি
হাওয়ায় দুলে শ্বেত শুভ্র বাড়ি
চাঁদকে হাতের কাছে ছাড়ি।

ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে স্বর্গীয় সুধা
নারীর চোখের পাতা, ঠোঁট – মুখের কোমলতা
নিঝ্‌ঝুম ঝুম বৃষ্টিতে কাঁপা
তারপর

শূন্যে সকাল ভাসা
অথৈই নিঃসঙ্গ নীরবতা
নিজেকে নিয়ে খেলি
নিঃশব্দে চাবির গোছা তুলি
আবার

জল জোছনা জল
টসটসে নদীর ছল
ঝিলিক তুলে ছুটে মাছ পল পল
বুকে বাজে বড় ধম ধমা ধম মাদল।।

উড়ে যায় পালাকার বিস্মিত যমুনায়

শামান সাত্ত্বিক | মার্চ ২০, ২০১১ | ২২:৩৮ বিভাগ: কবিতা

ফাগুন আকাশ বরফে ঢাকা
মৃত শব ঢেউ তুলে আঁকা বাঁকা

ধূসর মগ্ন প্রভাত কোমল শীতলমাখা
গর্জিত প্রান্তরে স্রোতস্বিনীর থমকে থাকা

রয়েছে বিক্ষেপ, দর্পচূর্ণ আমার, অরুদ্ধ অশ্লেষ
কাঁপে ফাঁপে স্ফুলিঙ্গ পড়ে চাপা ঢাকে গতিবেগ

আজ আমার স্বর উচ্চারিত তোমার স্বরে
মুছে দিলে না ক্লান্তি গহীন রাত্রির স্পর্শে

হবো না বিবাগী আমি অমৃত জোছনায়
বিষণ্ণ অশব্দ আনন্দে
উড়ে যায় পালাকার ঘর ছেড়ে বিস্মিত যমুনায়।।

ঈশ্বর প্রেমে পড়েছিল

শামান সাত্ত্বিক | নভেম্বর ২৯, ২০১০ | ১৩:১৪ বিভাগ: বিবিধ

শোনো ঈশ্বর না কি প্রেমে পড়েছিল সেদিন
পেড়েছিল দু’টো ফল –
ইভ এবং অ্যাপল
বাঁ মুঠোয় তার ইভ
আর অ্যাপলটা সে খেলো
সাথে সাথে এ পৃথিবীর জন্ম হলো।

তাহলে ইভ?
ঈশ্বর প্রেমে পড়েছিলো বাঁধা?
লেখা ছিলো না কোথাও তা
পবিত্র গ্রন্থ হৃদয়ে গাঁথা।

সত্যি ঈশ্বরের প্রেম ছিল
তিনি জানতেন বলে প্রেম
আদমের সাথে মিশে ছিল হাওয়া
হাতালে ধর্মগ্রন্থ খুঁজে যায় পাওয়া।

শেষে একদিন ঈশ্বরের কাছে
আদম এলো হাওয়াও এলো
প্রেমের হিসেব পেতে চাইলে
আদম থেকে ঈশ্বর
সে হিসেবে ফাঁকা কোন পেলো না
হাওয়া থেকে নালিশ বা অভিযোগ

ঈশ্বর পড়লো বিপাকে বড়
ধ্বংসের ধ্বজা উড়লো আকাশে
উড়ে প্রজাপতি মরে চাপা পড়ে।

আমি আমার পূর্বপুরুষ

শামান সাত্ত্বিক | নভেম্বর ২২, ২০১০ | ১৩:২৯ বিভাগ: কবিতা

হলুদ রঙ। হলুদ ধূসর কটকটে সবুজাভ।
মাকে আমার করেছে বেষ্টন।
উন্মূল স্মৃতি হারানো বিরূপ বদ্ধ রাতের ঘোর মাহেন্দ্র ক্ষণ।
ঘুমন্ত বিভোর দন্ডায়মান মা স্বপ্নভূত জাগরণ
খুঁজে ফেরেন কোন এক পবিত্র সময় সন – অরণ্য রোদন।
ধরায় নেমে আসুক তারচে’ আঁধার ঘোর শ্রাবণ।।

আমার পিতৃব্য ও পিতার ক্ষুণ্ণ মন
ঠাসা ব্যর্থতায় অন্তরাত্মার কাঁপন
জলোচ্ছ্বাস প্লাবন মন্বন্তর ধ্বস ধ্বংস দুর্ভিক্ষ দহন
পারে নি নিতে তুলে হাত সবল
কাস্তে কোদাল কুড়াল লাঠি সড়কি বা বল্লম
কুঁপির আলোয় চোখ মেলে কমনীয় নারী তার অপরূপ লাবণ
অগ্নি স্নানে শুচি হন পিতা পিতৃব্য প্রতাপ পুরুষ পরম
ছোপ ছোপ অন্ধকারে নিমজ্জিত ঘরের কোণ আমার জন্মগ্রহণ
সোঁদা গন্ধে মিশে থাকে সকাল দুপুর রাতের তীক্ষ্ণ বুনো রণন

একদা দা টা উঁচিয়ে ছিল। কৃপাণটা নেমে এলো দৃঢ়
পাখিটা উড়ছিল, ঝাপটালো হাওয়া
ডাকে না পাখি আর। অদীপ্ত ভঙ্গির দীপ্ত চিৎকারে চতুর্পাশ জ্বলে খাক
খালটা ছিল চওড়া। থাকেনি থেমে স্বচ্ছ পানির বহমান লোহিত ধারা
লেগে থেকে সবুজ শ্যামলে পাতায় ফুলে মাড়ি মড়কে আবারও খরা।

এক সময় নেমে এলো রূপালী চাঁদ হাতের তালুয়, সানকির পানি গড়াগড়ি খায়
যেখানে মিশবে এসে মাগুরের ঝোল সীম, শীতের আলু – ঢেঁকি ছাটা আউশ দলা
কুয়াশার চাদর জড়িয়ে নেবে আমার ধমনীর নিরুদ্দীপ্ত শোণিত ধারা
উষ্ণ রক্ত হিমানী শির শির স্পর্শ পায়, তারপর আবেশায়িত কোন মায়াবী
রাতে ঝির ঝির বসন্তের গান শোনায়। সেখানে আমার শৈশব নতুনের দেখা পায়।

সব ভূতুড়ে জঙ্গল

২২ অক্টোবর ২০১০, ১৮:০১

আগুনের দিকে ছুটে চলা – আগুনমুখো
শসা সদৃশ লম্বা সার্কাসের সেই তরুণী
টলটল চোখ জলজল চাহনি
উর্ধ্বে বিচ্ছুরিত অগ্নি নিঃসৃত মুখোগহবর
সাউথ’মেরিকান ব্রাজিলীয় তীব্রতা
কাঁচের স্বচ্ছ গড়ন।

ছুটে জোৎস্নায় সে সমুদ্র মন্থন
ঢেলে দেয় বিষ দেহ দহন
চেতনারা বিলুপ্ত, নির্বোধ নিস্তেজ নিথর মৌণ কথন।
অবশ শরীর, বলে গেলে না বলে গানে
সেই রাত্রির ঝাঁঝালো ক্ষণে
দেখা হবে আবার সাগর সঙ্গমে
মাছেরা খেলে গভীর সংগোপনে
সঁপে সব দেহ মন।
উড়ে গেল সে –

ভয়াবহ গর্জন তুলে ছুটে চলে
মেলে ডানা আকারহীন তস্কর
খুঁজে তার ছায়া পলে পলে
মোহাচ্ছন্ন রাতের নগ্ন প্রহর
সে এখুনি বসাবে কাপুরুষ ছোবল –
শুভ্র শুদ্ধ সফেদ শত্রু, সহজ সরল।

নিথর শরীর সাহসে শক্ত কম্পমান
দক্ষিণ সাগরমুখো সবলে ধাবমান
যেতে পথে দেখে অসার সারি তস্কর উলঙ্গ দঙ্গল
ঝুঁকে উঁকি দেয় এই বিস্তৃত আকাশ লেলিহান ফসল
হোক সরানো, এখনই –
পরগাছে থরে থরে ভরে গেছে সব ভূতুড়ে জঙ্গল।

প্রকোষ্ঠ গভীর আন্ধার

০৫ জুন ২০১০, ১১:৪৫

লেলিহান শিখায় প্রোজ্জ্বল নিটোল ফুসফুস
লোহিত কণায় মেশে আলকাতরা তরল

মধুমাস মধু কই
বিকারহীন রৌদ্রঝিম আকাশ।
ঋণ দিলে না
ছায়াশীতল স্নিগ্ধ কাঁঠালকোণ ঘুরঘুর ঘুঘু দোয়েল কইতর।

কাঠের কয়লা খন্ড অখন্ড
সোনালী স্ফটিক আগুণকুন্ড
জ্বলজ্বলে জ্বলে জ্বালা
গরম চিমনি নির্গম ধোঁয়া
লিচু রঙ চোখ টসটসে আম রসে ভরপুর গাল
জাম রঙ রঙিন ঠোঁট কোষ কাঁঠাল।

ভূতুড় নৃত্যে কালের কন্ঠ চেপে হাসে বিজয়বেশ পিচাশ
ঝুলন্ত কুকুর জিভ কম্পমান কালচে লোহিতে উষ্ণ উদগিরণ
ধমকে ধমকে তোলে ধমক বাদুড় ছোটে গাঢ় আঁধার
এখনো হয়নি জন্ম আমার

টপ টপ বৃষ্টি ঝরে ঝির ঝির
গজে উঠে ছাতা এধার অধীর
পরাজয় জানে না আর –
সারি সারি কাতার কাতার
নীরবে দাঁড়ায় দুয়ার –
প্রকোষ্ঠ গভীর আন্ধার।

অহংকারের শূন্য জালে

Facebook Note by Shaman Shattik on Tuesday, July 26, 2011 at 2:51am

গভীর জলে খেলছে শুয়ে দোর্দন্ড রোদ আলো
সাঁতার পুলের দুপুর শরীর আবছা আবছা চতুর কালো
কন্যা মৎস্য, তুমি তিমি হয়ে খেলছো খেলো

আমার শরীর জুড়ে লম্বালম্বি উঁইয়ের উঁচু ঢিবি
অবিরাম বৃষ্টি ঝরে কামড়ে ত্বক উঁইয়ের সারি
নেও না কেন আমায় তুমি ছোঁ মেরে জলের তলে
দিচ্ছো ফেলে ধাক্কা মেরে অহংকারের শূন্য জালে।।

সাম্প্রতিক সময়ের কবিতাগুচ্ছ

Advertisements

তথ্য কণিকা শামান সাত্ত্বিক
নিঃশব্দের মাঝে গড়ে উঠা শব্দে ডুবি ধ্যাণ মৌণতায়।

3 Responses to পুরোনো কাব্য সম্ভার

  1. আপনি কি শব্দনীড়/অন্তরনামা’র শামান সাত্ত্বিক ভাই?

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s

%d bloggers like this: